Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

গণপিটুনি কমাতে কী করতে হবে

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২: ২৩
গণপিটুনি কমাতে কী করতে হবে

এ দেশে হুট করেই যেন বেড়ে গেছে গণপিটুনি এবং প্রতি মাসেই বেশ আশঙ্কাজনক হারে ঘটছে এটি। পরিসংখ্যানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে গণপিটুনির হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। শুধু ২০২৩ সালের সঙ্গে তুলনা করলেই দেখা যাবে, এক বছরের ব্যবধানে গণপিটুনি সংক্রান্ত নিহতের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। ২০২৫ সালেও তা বৃদ্ধির পথেই আছে। এতেই বর্তমান অবস্থা আন্দাজ করা যায় অনেকটা। কিন্তু এমন ধারাবাহিক গণপিটুনি আসলে কীসের ইঙ্গিত দেয়?

Advertisement

এক্ষেত্রে আগে জানতে ও বুঝতে হবে যে, গণপিটুনি আসলে কেমন ক্রিয়া। সাধারণত অনেক মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে একই উদ্দেশে পেটায় এই প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ, এই পিটুনি এক ধরনের শাস্তি প্রদান প্রক্রিয়া। প্রচলিত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই, সমাজের মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে এমন শাস্তি প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ, সভ্য সমাজে যেখানে আইনের আওতায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, অভিযোগপত্র গঠন হয়, আদালতে বিচার হয় এবং এসবের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হলে আনুষ্ঠানিক শাস্তি প্রদান করা হয়। এতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত এক ধরনের সমান সুযোগ পায়। কিন্তু এসব প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পাদিত হয় গণপিটুনির মতো কর্মকাণ্ড। এটি এক ধরনের ‘মব জাস্টিস’। কিছু মানুষ গোষ্ঠী বা জোটবদ্ধ হয়ে নিজেরাই শাস্তি প্রদান করে, সেটি দোষ থাকুক বা না থাকুক। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহের বশেও এমন কর্মকাণ্ড ঘটে। এবং সব ক্ষেত্রেই গণপিটুনির মতো মব জাস্টিস অবৈধ এবং এটি এক ধরনের হত্যাকাণ্ড। যদিও মবের সঙ্গে জাস্টিস শব্দটি আদৌ যায় কিনা, এ নিয়েও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই মবের সঙ্গে জাস্টিস শব্দটি বসাতে রাজি নন। তারা বলেন, এর চেয়ে মব ভায়োলেন্স বলা যুক্তিযুক্ত। কারণ এটিও অপরাধ।

এবার চলুন জানা যাক, মব জাস্টিস বা ভায়োলেন্স সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে। গবেষকেরা এক্ষেত্রে কিছু কারণ বের করেছেন। তারা বলছেন, মব জাস্টিস জন্মের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অকার্যকর বিচার বিভাগ। এই বিভাগের ওপর যখন সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে, কোনোভাবেই যখন প্রচলিত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাস ফেরাতে পারে না, তখনই মব নিজেরাই জাস্টিস প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে। এছাড়া যখন সরকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়, তখনও মব জাস্টিস বা ভায়োলেন্স দেখা যায়। এই আইন প্রয়োগহীনতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকেরা বলছেন, যখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখনই তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্ররোচনা পায়। এই নিরাপত্তাহীনতা তখনই প্রবল হয়ে ওঠে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা আনুষ্ঠানিক বাহিনী এক অর্থে অকার্যকর হয়ে যায়। অর্থাৎ, এসব বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলার কারণেই নিরাপত্তাহীনতার জন্ম হয়। এক্ষেত্রে সরকারের কর্মনৈপুণ্যহীনতাকেও কাঠগড়ায় তোলা হয়। সুতরাং, একটি বিষয় স্পষ্ট যে, প্রচলিত সরকার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের ব্যর্থতাই মোটা দাগে মব জাস্টিস বা ভায়োলেন্স সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

mob lyncing 2

গণপিটুনির মতো মব ভায়োলেন্স নিয়ে যেসব আন্তর্জাতিক গবেষণা হয়েছে, সেসবে এটি স্পষ্ট যে, এ ধরনের ঘটনা কমাতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতেই হবে। এগুলো কম–বেশি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সত্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি যে ঘটাতেই হবে, সেটি বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। তবে সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের প্রতি জনমানুষের আস্থা ফেরাতে দুর্নীতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটার পর সেগুলো সামাল দিতে হবে স্বচ্ছ উপায়ে। বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতেই হবে। সেই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে যেসব আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে, সেসব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিতও করে তুলতে হবে। নাগরিক বানাতে হলে জনসাধারণকে নাগরিক হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে।

এসব না হলে গণপিটুনির ঘটনা গণহারে ঘটতেই থাকবে। তা থেকে আর রক্ষা পাওয়া হবে না।

বিষয়: বাংলাদেশগণপিটুনিমৃত্যুআইন–শৃঙ্খলামানুষসমাজগবেষণাঅপরাধপিটিয়ে হত্যা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ