Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

খনিজ সম্পদের নতুন ‘অভিশাপ’

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৩
খনিজ সম্পদের নতুন ‘অভিশাপ’

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব যখন জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে, ঠিক তখনই সামনে আসছে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকট।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেলের যুগ যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছিল, আসন্ন ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ বা বিরল খনিজ সম্পদের যুগ তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

গত ৩০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে অর্থনীতিবিদ রাবাহ আরেজকি, ফ্রেডরিক ভ্যান ডার প্লোয়েগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল রস এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন।

চাহিদার ব্যাপকতা ও নতুন খনিজ যুগের সূচনা

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন কয়লা ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের জায়গা দখল করেছিল পেট্রোলিয়াম এবং অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন বা ইন্টারনাল কামবাসশন ইঞ্জিন, তখন থেকেই তেল হয়ে উঠেছিল জাতীয় শক্তির অন্যতম মাপকাঠি। বর্তমানে লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট বা বিরল খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। এই খনিজগুলো ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), ব্যাটারি স্টোরেজ, উইন্ড টারবাইন এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের জন্য অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে লিথিয়ামের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৪০ সাল নাগাদ এই চাহিদা পাঁচ গুণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুরানো অভিশাপের নতুন রূপ

ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলো প্রায়ই ‘রিসোর্ড কার্স’ বা সম্পদের অভিশাপের শিকার হয়। যখন কোনো দেশ হুট করে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক হয়, তখন সেখানে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নষ্ট হয়। একে অর্থনীতিতে ‘ডাচ ডিজিজ’ বলা হয়। তেল সমৃদ্ধ দেশ যেমন নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা বা ভেনেজুয়েলায় আমরা দেখেছি কীভাবে তেলের টাকা কেবল একটি নির্দিষ্ট উচ্চবিত্ত শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানের অত্যাবশ্যকীয় খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রেও এই একই ঝুঁকি বিদ্যমান। কঙ্গো বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে খনিজ উত্তোলনে বড় ভূমিকা রাখছে, সেখানে যদি সঠিক শাসনব্যবস্থা গড়ে না ওঠে, তবে এই নতুন সম্পদ তাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।

বিরল খনিজ আসলে কী? কোন কাজে লাগে?rare earth mineral

তেল বনাম খনিজ সম্পদ: পার্থক্য যেখানে আকাশ-পাতাল

গবেষকরা তেলের যুগের সাথে বর্তমান সময়ের কিছু মৌলিক পার্থক্য চিহ্নিত করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে:

১. প্রযুক্তিগত অনিশ্চয়তা: তেলের চাহিদা গত এক শতাব্দী ধরে প্রায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু খনিজ সম্পদের বাজার নির্ভর করে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির ওপর। আজ যে ব্যাটারিতে কোবাল্ট লাগছে, কাল হয়তো নতুন আবিষ্কারের ফলে কোবাল্ট ছাড়াই ব্যাটারি তৈরি হবে। যেমনটি সম্প্রতি চীনের ল্যাবে উদ্ভাবিত ‘লিথিয়াম-আয়রন-ফসফেট’ ব্যাটারির কারণে ঘটেছে, যার ফলে কোবাল্টের দাম হঠাৎ অর্ধেক হয়ে গেছে। এই ধরনের অনিশ্চয়তা খনিজ উৎপাদনকারী দেশগুলোকে যেকোনো সময় দেউলিয়া করে দিতে পারে।

২. সরবরাহ চেন ও চীনের একাধিপত্য: তেলের ক্ষেত্রে ওপেকের মতো সংস্থাগুলোর একটা ভারসাম্য ছিল। কিন্তু বর্তমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলিত হয় বিভিন্ন দেশে, কিন্তু সেগুলোর পরিশোধন বা রিফাইনিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এককভাবে চীন। বিশ্বের প্রায় ৬০% লিথিয়াম, ৯০% বিরল খনিজ পদার্থ এবং ৭৫% কোবাল্ট রিফাইনিং ক্ষমতা চীনের হাতে। ওপেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকে, কিন্তু চীনের সিদ্ধান্ত আসে কেন্দ্র থেকে। ফলে বেইজিং চাইলেই যেকোনো সময় বৈশ্বিক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে অন্য দেশকে চাপে ফেলতে পারে।

৩. ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিংশ শতাব্দীতে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অধীনে তেলের বাজার পরিচালিত হতো, যেখানে মার্কিন ডলার ছিল প্রধান কারেন্সি। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈরিতা এবং বিশ্ব অর্থনীতির মেরুকরণ এই বাজারকে প্রচণ্ড অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এখন কে কার মিত্র, কার কাছ থেকে খনিজ কেনা যাবে– এই সমীকরণগুলো প্রতিদিন বদলাচ্ছে।

মিয়ানমারের বিরল খনিজ চীনের ‘হাতে’, কী ভাবছে আমেরিকা?myanmar china

উত্তরণের পথ কী?

এই সংকট থেকে বাঁচতে গবেষকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, কেবল খনিজ উত্তোলন করলেই উন্নয়ন আসবে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোই আসল চাবিকাঠি।

  • দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্ব: খনিজ উৎপাদনকারী দেশগুলোকে ক্রেতা দেশগুলোর সাথে এমন চুক্তি করতে হবে যেখানে শুধু কাঁচামাল বিক্রি নয়, বরং নিজ দেশে পরিশোধন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের শর্ত থাকবে। ইউক্রেন ও চিলির মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে এই ধরনের কৌশলগত চুক্তি শুরু করেছে।
  • আন্তর্জাতিক সমন্বয়: চীনের একাধিপত্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে খনিজ মজুত এবং অর্থায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
  • অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য: তেলের টাকার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা যেমন অনেক দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, খনিজের ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে। নরওয়ের ‘সভরেন ওয়েলথ ফান্ড’-এর মডেল অনুসরণ করে খনিজ থেকে আসা আয়কে শিক্ষা, অবকাঠামো এবং অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে খনিজের চাহিদা কমে গেলেও অর্থনীতি সচল থাকে।

পরিশেষে, ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, খনিজ সম্পদ কেবল একটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি আগামী দিনের বিশ্ব ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি। যদি বিশ্বনেতারা সময় থাকতে একটি স্থিতিশীল এবং নিয়ম-ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারেন, তবে এই খনিজ সম্পদ বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন যুদ্ধ, অভ্যুত্থান এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সবুজ জ্বালানির মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষা করার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা যেন নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের বলি না হয়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিষয়: জ্বালানিআন্তর্জাতিকবিরলবিশ্ব অর্থনীতিসম্পদ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ