Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ভেনেজুয়েলা থেকে কী শিক্ষা নেবে চীন-তাইওয়ান

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৫৬
ভেনেজুয়েলা থেকে কী শিক্ষা নেবে চীন-তাইওয়ান

বেইজিংয়ের রাজপথে সশস্ত্র বাহিনীর নতুন সমরাস্ত্রের কুচকাওয়াজ। আফ্রিকায় বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে টহল। তাইওয়ানসহ বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ এলাকার আশপাশে জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক মহড়া। চীনের সাধারণ মানুষ মূলত এসব দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু ৪৫ বছরের কমবয়সী কোনো চীনা নাগরিকেরই অন্য কোনো দেশের ওপর চীনের ‘আসল’ সামরিক হামলা দেখার অভিজ্ঞতা নেই।

Advertisement

প্রবীণ প্রজন্মের যারা তা দেখেছেন, তাদের বেশিরভাগই ১৯৭৯ সালের সেই যুদ্ধের কথা ভুলে যেতে চান, যেখানে ভিয়েতনাম চীনের আক্রমণ প্রতিহত করেছিল। তাই ভেনেজুয়েলা থেকে নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে নিতে আমেরিকার নাটকীয় নৈশকালীন অভিযানের খবরে অনেক চীনা যে হতবাক হবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

চীন সরকার দ্রুত এই অভিযানের নিন্দা জানালেও এর বিস্তারিত বিবরণ এবং এ নিয়ে আলোচনা অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কট্টর জাতীয়তাবাদী মন্তব্যের পাশাপাশি একটি সাধারণ প্রশ্নও বারবার উঠে এসেছে–এটি কি তাইওয়ানে চীনা হামলার একটি ব্লু-প্রিন্ট বা টেমপ্লেট হতে পারে?

তাইওয়ান এবং আমেরিকাতেও একই ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেখানকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তি দিচ্ছেন, এই অভিযান চীনের নেতা শি জিনপিংকে তাইওয়ানে হামলা চালানোর এবং সেই হামলাকে বৈধতা দেওয়ার একটি নজির তৈরি করতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
রাশিয়া ক্ষুব্ধ, চীন দেখছে, বিশ্ব নার্ভাসRussia-china flag

আসলে, মাদুরোকে বন্দি করার এই ঘটনা সম্ভবত তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলবে। কৌশলগতভাবে, চীনা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই এই অভিযানটিকে একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। আমেরিকা ‘গুন্ডাগিরি’ করছে, আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন করছে–চীনের এই প্রচারণাকে আরও জোরদার করার উপায়ও মিলল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি যুক্তিগুলো চীনের কাছে খুব-একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আরও প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো, চীন এখন পর্যন্ত তাইওয়ান আক্রমণ থেকে বিরত রয়েছে আন্তর্জাতিক নিন্দার ভয়ে নয় বরং নিজেদের সামরিক সীমাবদ্ধতা এবং আমেরিকার হস্তক্ষেপের আশঙ্কার কারণে।

তা সত্ত্বেও, এই ঘটনা থেকে চীন এবং তাইওয়ান উভয়ের জন্যই কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে। চীনের বিশেষ বাহিনী বছরের পর বছর ধরে তাইওয়ানের নেতৃত্ব উৎখাতের হামলার পরিকল্পনা করে আসছে। ২০১৫ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয় যে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) উত্তর চীনের মরুভূমিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের একটি হুবহু প্রতিরূপ তৈরি করেছে, যাতে সেখানে হামলার মহড়া চালানো যায়। ২০২০ সাল থেকে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আকার তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৬ সালে কোন পথে এগোবে চীন?Xi

জাপানি একটি প্রতিষ্ঠান গত অক্টোবরে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে জানিয়েছে, সেখানে তাইওয়ানের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মডেলও তৈরি করা হয়েছে।

তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াগুলোতেও এই নেতৃত্ব নির্মূলের মহড়াগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বরের সর্বশেষ মহড়ায় ডজন খানেক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের পাশাপাশি দূরপাল্লার রকেট হামলাও চালানো হয়েছিল। এতে মূলত একটি অবরোধ এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকানোর প্রক্রিয়ার কৃত্রিম মহড়া দেওয়া হয়। চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির সিনিয়র কর্নেল ঝাং চির মতে, তারা স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় ব্যক্তিদের ওপর হামলারও মহড়া দিয়েছে।

চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

তবে চীনকে কেবল তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে হত্যা বা বন্দি করলেই চলবে না, কারণ সেটি করলে সরকারের বাকি অংশ অক্ষত থেকে যাবে। তাই পিএলএ সম্ভবত এই ‘উৎখাত’ হামলাকে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করবে, যা সম্ভাব্য পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের রূপ নিতে পারে।

তবুও, চীনের পিএলএর বিশেষায়িত ইউনিটগুলো এখন পর্যন্ত দেশের ভেতরেই উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি, বিদেশের মাটিতে তো দূরের কথা। এমনকি এক দশকের বেশি সময় আগে শি জিনপিং এ লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শুরু করলেও চীন এখনও মহাকাশ, আকাশপথ, স্থলভাগ এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সেই উচ্চস্তরের সমন্বয় গড়ে তুলতে পারেনি, যা এই ধরনের অভিযানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তাই চীন সম্ভবত কারাকাসে আমেরিকার চালানো অভিযানটি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এর আগে তাইওয়ানের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে পারে এমন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অভিযানগুলোও তারা দেখেছে। যেমন: ডি-ডে ল্যান্ডিং এবং ফকল্যান্ড যুদ্ধ।

একইভাবে, তাইওয়ানও আমেরিকার এই অভিযান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে। তাদের সশস্ত্র বাহিনী ভেনেজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি সুসজ্জিত এবং প্রশিক্ষিত। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই হামলার আশঙ্কা করে আসছে, যে অভিযানে তাইওয়ানে আগে থেকেই অবস্থান করা চীনের গোপন এজেন্টদের ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার দ্বীপটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হু সু-চিয়েন সাংবাদিকদের জানান, চীনের বিভিন্ন ধরণের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টকে রক্ষার জন্য তথাকথিত ‘ওয়ান চুন’ পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত, যার বিস্তারিত বিবরণ গোপন রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার এই অভিযান তাদের প্রস্তুতি জোরদার করার এবং অস্ত্রশস্ত্রের আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। এই ঘটনার সূত্র ধরে তিনি তাদের সরকারের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন, যা বর্তমানে বিরোধী দলের বাধায় আটকে আছে।

তাইওয়ানের কাছে বিশেষ আগ্রহের একটি বিষয় হলো ভেনেজুয়েলার চীন-নির্মিত জেওয়াই-২৭ এয়ার-সার্ভেইল্যান্স রাডারগুলোর আপাত। এগুলোর প্রস্তুতকারক সংস্থা রাডারগুলোকে জ্যামিং-প্রতিরোধী হিসেবে বর্ণনা করে থাকে এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, এগুলো আগত ক্ষেপণাস্ত্র এবং আমেরিকার এফ-২২ ফাইটার জেটের মতো উন্নত ও স্টেলথ' (রাডারে ধরা না পড়ার প্রযুক্তিসম্পন্ন) বিমানও শনাক্ত করতে সক্ষম।

যদিও ভেনেজুয়েলায় এই রাডারের ব্যর্থতা দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অপারেটরের ভুল কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণেও হতে পারে। তবুও আমেরিকা এর কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে, এমন যেকোনো ইঙ্গিত তাইওয়ান সংঘাতের ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, একই রাডারের বিভিন্ন সংস্করণ চীনের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তাতেও ব্যবহৃত হয়।

*দ্য ইকোনোমিস্টের নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত*

বিষয়: রাশিয়াতাইওয়ানডোনাল্ড ট্রাম্পঅনলাইনচীনভেনেজুয়েলা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ