Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

আমেরিকার ভুলকেই কৌশল বানাতে চায় চীন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ১৫
আমেরিকার ভুলকেই কৌশল বানাতে চায় চীন

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার উচ্চাভিলাষ নিয়ে। সমর্থকদের মতে, এটি শুধু একটি “বিরূপ শাসনব্যবস্থা” দুর্বল করার উদ্যোগ ছিল না, বরং বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে চীনের মতো উদীয়মান শক্তিকে চাপের মুখে ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেখিয়ে চীনকে দুর্বল প্রমাণ করা এবং সামরিক শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো–এই ছিল সেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু যুদ্ধের এক মাস পরেই এই ধারণা ক্রমশ ভ্রান্ত এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, বিশেষত বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে। বিখ্যাত বিট্রিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সম্পাদকীয় নিবন্ধে এমনটাই লিখেছে।

Advertisement

ইকোনমিস্ট বলছে, চীনের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় যে চিত্র উঠে এসেছে, তা থেকে স্পষ্ট যে, তাদের কাছে এই যুদ্ধ আমেরিকার একটি গুরুতর ভুল। চীন সরাসরি জড়ায়নি, কারণ তাদের কৌশল অনেকটাই নেপোলিয়নের সেই বিখ্যাত উক্তির মতো, “শত্রু যখন ভুল করছে, তখন তাকে বাধা দিও না।” বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, আমেরিকা নিজেই এমন এক পথে হাঁটছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সাময়িকীটি লিখেছে, প্রথমত, চীনের বিশ্লেষকদের মত হলো, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। উনিশ শতকের ব্রিটেনের মতো, আজকের আমেরিকাও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, কিন্তু কৌশলগত স্পষ্টতা ও সংযমের অভাব স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কখনও হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনও পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এই অনিশ্চয়তা আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

চীনের ধারণা, এই যুদ্ধ আমেরিকার ‘অবক্ষয়ের বয়ান’কে আরও জোরদার করবে। যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, ইরানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বা শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে–তাহলে আমেরিকাকে বছরের পর বছর মধ্যপ্রাচ্যে জড়িয়ে থাকতে হতে পারে। এমনকি ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগোয়, তবে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এসবই আমেরিকাকে পূর্ব এশিয়া থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেবে–যেখানে চীন ২১ শতকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পরিস্থিতি মার্কিন মিত্র দেশগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলছে। তারা শুধু একটি অনির্ভরযোগ্য মিত্রের মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্যও তাদের দিতে হচ্ছে বর্ধিত জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে। ফলে এশিয়ার দেশগুলো চীনের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে আরও সতর্ক হতে পারে–এমনটাই মনে করছে বেইজিং।

ছবি: এআই দিয়ে বানানো
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

ইরানেও ব্যর্থ যুদ্ধের ছায়াiraq iran

দ্বিতীয়ত, চীনা কর্মকর্তারা মনে করেন, এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘স্বনির্ভরতা’ নীতির যথার্থতা প্রমাণ করছে। প্রযুক্তি ও সম্পদে আত্মনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টা এখন কৌশলগতভাবে লাভজনক বলে মনে হচ্ছে। যদিও তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষতি করেছে। চীন ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করেছে, শক্তি উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছে এবং নিজস্ব কয়লার ব্যবহার বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে, তারা ইরানের তেল বাণিজ্য চালু রাখতে সাহায্য করছে, যা তাদের বাস্তববাদী কৌশলেরই অংশ।

শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নয়, চীন নিজেও নতুন ‘চোকপয়েন্ট’ তৈরি করতে চাইছে। বিরল খনিজ, ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, চিপ প্রযুক্তি–এসব ক্ষেত্রেও প্রভাব বাড়িয়ে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে বেইজিং। একই সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, রোবোটিক্সের মতো নতুন প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যও রয়েছে।

তৃতীয়ত, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিকে চীন একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরান পুনর্গঠনের জন্য বিশাল প্রকল্প হাতে নেবে, যেখানে চীনা কোম্পানিগুলো অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে অনেক দেশ বিকল্প শক্তি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে, যেখানে চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগবে।

এ ছাড়া, দুর্বল অবস্থানে থাকা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনাতেও চীন সুবিধা নিতে চায়। আসন্ন শি-ট্রাম্প বৈঠকে তারা শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কমানোর চেষ্টা করবে। এমনকি তাইওয়ান প্রসঙ্গেও আমেরিকার অবস্থান নরম করার আশা করছে বেইজিং।

ছবি: এআই দিয়ে বানানো
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

তবে এই আত্মবিশ্বাসের মাঝেও উদ্বেগ রয়েছে। আমেরিকা যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তা চীনকে বিস্মিত করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমেরিকা এখনো শক্তিশালী। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চীনের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত রপ্তানির ওপর।

চীন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরান-যুদ্ধiran china

সবচেয়ে বড় কৌশলগত সীমাবদ্ধতা হলো, চীন এখনো এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করতে অনিচ্ছুক, যেখানে আমেরিকা নিজেই বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে। অথচ সেই ব্যবস্থার মধ্যেই চীন এতদিন সমৃদ্ধ হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা চীনের জন্যও বিপজ্জনক। কারণ তাদের অর্থনীতি এখনো রপ্তানিনির্ভর।

ইকোনমিস্ট তাদের সম্পাদকীয় নিবন্ধটি এভাবে শেষ করেছে যে, শেষ পর্যন্ত চীন অনেকটাই বাজি ধরছে এই ধারণার ওপর যে, আমেরিকা এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, আমেরিকা বারবার নিজেদের পুনর্গঠন করতে পেরেছে। অন্যদিকে, চীন নিজেই অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। ফলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন শক্তির ভারসাম্য গড়ে উঠতে পারে।

বিষয়: আমেরিকাইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতশি জিনপিংডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ