Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ: পর্দার আড়ালে জিতছে চীন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ২৩
ইরান যুদ্ধ: পর্দার আড়ালে জিতছে চীন

একটি গুলিও না ছুড়ে ইরান যুদ্ধের বড় বিজয়ী বেইজিং, এমনটাই মনে করেন মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সম্পাদক জিম ভ্যান্ডেহাই। অ্যাক্সিওসের প্রকাশিত বিশ্লেষণে তিনি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার পরিচিত কৌশলই ব্যবহার করেছেন। তিনি ধৈর্য ধরে আমেরিকার বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়েছেন। এই সংঘাত চীনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই, কোনো অর্থ খরচ না করেই চীন কূটনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি কৌশল এবং মার্কিন সামরিক তথ্য–সব দিকেই শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায়।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির দিকে কিছু অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে সমস্যা এখনো চলছে। কৌশলগত ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। বিশেষ করে সামরিক দিকটি পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তার জ্যাসম-ইআর স্টেলথ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত টেনে আনতে হয়েছে। টোমাহক, প্যাট্রিয়ট, থ্যাড এবং ড্রোন–সব ধরনের অস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।

অন্যদিকে চীন এই যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পেয়েছে। তারা দেখেছে আমেরিকা কীভাবে যুদ্ধে এআই ব্যবহার করে। কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কীভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করা হয়। এমনকি সস্তা ইরানি ড্রোন কীভাবে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে। তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য এটি চীনের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন কৌশলের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পরিকল্পনা করা তাদের জন্য সহজ হবে।

মিয়ানমারের বিরল খনিজ চীনের ‘হাতে’, কী ভাবছে আমেরিকা?myanmar china

জ্বালানি খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ পড়ে। তখন অনেক দেশ বিকল্প শক্তির দিকে ঝোঁকে। চীন ইতিমধ্যে সৌর, বায়ু, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই পরিবর্তন তাদের পক্ষে যায়। যদিও চীনের প্রায় অর্ধেক তেল হরমুজ দিয়ে আসে, তবুও দেশটি অনেকটাই স্বনির্ভর। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাদের কৌশলগত তেল মজুতও অনেক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কূটনৈতিক দিকেও চীন সুবিধা পেয়েছে। যখন আমেরিকা কঠোর ভাষায় হুমকি দিচ্ছিল, তখন চীন নীরবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশ ভাবছিল তারা কার সাথে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার মিত্ররা দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অঞ্চল থেকে প্রতিরক্ষা সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে চীনের দিকে কিছুটা ঝুঁকি কম তৈরি হয়েছে।

এআই প্রযুক্তিতে আমেরিকাকে টেক্কা দিচ্ছে চীন। ছবি: এসআই দিয়ে বানানো
এআই প্রযুক্তিতে আমেরিকাকে টেক্কা দিচ্ছে চীন। ছবি: এসআই দিয়ে বানানো

এআই খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনের নিজস্ব এআই সক্ষমতা ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। তারা বাইরের সহায়তা ছাড়াই এগোতে পারছে। পশ্চিমা বিনিয়োগ যত বাধাগ্রস্ত হবে, চীনের বিকল্প তত শক্তিশালী হবে।

বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে এই খাতে সক্ষমতা কম। কিন্তু চীন খনি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রতিটি আধুনিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যত বেশি অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, এই নির্ভরতা তত বাড়ছে।

তবে চীনের সুবিধা সীমাহীন নয়। যদি হরমুজে দীর্ঘ সময় সমস্যা চলে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে চীনের রপ্তানিও কমে যেতে পারে। তাই চীন দ্রুত স্থিতিশীলতা চায়। তাদের লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল বিশ্ব ব্যবস্থা। তবে অনেক দেশ এখন স্থিতিশীলতার জন্য চীনের দিকে তাকাচ্ছে–এটিও বাস্তবতা।

সব মিলিয়ে ভ্যান্ডেহাইয়ের বিশ্লেষণ স্পষ্ট। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে সেই দেশ, যে কোনো যুদ্ধই করেনি। সামরিক তথ্য, জ্বালানি কৌশল, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কূটনৈতিক প্রভাব–সব দিক থেকে চীন এগিয়ে গেছে। কোনো সৈন্য না পাঠিয়েও, কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করেও তারা সুবিধা নিয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি বড় উদাহরণ।

বিষয়: আমেরিকাঅস্ত্রবিরলইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রচীন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ