Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ভেনেজুয়েলার তেল খাত চালাতে টাকা দেবে কে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ০৬
ভেনেজুয়েলার তেল খাত চালাতে টাকা দেবে কে?

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের কী হবে? এত বড় খাত পরিচালনার অর্থ আসবে কোথা থেকে?

Advertisement

নিজের দেশের তেল কোম্পানিগুলোর জন্য খাতটি উন্মুক্ত করার ইচ্ছা থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতন ঘটাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নির্ভর করছে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে কতটুকু সম্পৃক্ত হবে–তার ওপর।

মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভরনই একমাত্র বড় তেল কোম্পানি, ভেনেজুয়েলায় যার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আছে। তবে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এখন সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে ভেনেজুয়েলার তেলখাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী কোম্পানিদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে এই তালিকায় শেভরন সবার সামনের সারিতে থাকবে।”

শেভরন এগিয়ে আছে, কারণ সমাজতান্ত্রিক সরকারের জবরদখল ও মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা ভেনেজুয়েলায় থেকে গিয়েছিল। এক্সনমোবিল ও কোনোকোফিলিপসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিরা তা পারেনি। শেভরনের প্রধান মাইক উইর্থ মাসের পর মাস বেসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা কাজ চালাতে পারেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভেনেজুয়েলা থেকে কী শিক্ষা নেবে চীন-তাইওয়ানtaiwan china

শেভরনের এই কৌশল কাজে দিয়েছে। মার্কিন অবরোধ আংশিক শিথিল হওয়ার পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেভরন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে, ২০২৫ সালের মে মাসের পর যা সর্বোচ্চ। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে যে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল মজুত তেল জব্দ করতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে (যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার)। সেখান থেকেও তারা লাভবান হবে।

ভেনেজুয়েলার বিশাল মজুতে শুধু স্থলভাগের তেলই নয়। গায়ানায় তাদের একটি উপকূলীয় তেলক্ষেত্রও আছে, যেখানে এক্সনমোবিলসহ আরও অনেক কোম্পানি ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন তেল-সংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর থেকে শেভরনের বাইরে আরও নানা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সুইস ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভিটল ও ট্রাফিগুরা ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির লাইসেন্স পেয়েছে এবং শেভরনের সঙ্গে মিলে তারা বিদ্যমান মজুত বাজারজাত করবে। যেসব মার্কিন ধনকুবের বা তেল কোম্পানিগুলোর পিছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আছে, তাদের লাভের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। যদিও সবার উৎসাহ সমান নাও হতে পারে।

‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকাMarco Rubio

সবচেয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে বড় তেল কোম্পানিগুলো। শেভরন যেহেতু আগে থেকে এই অঞ্চলে উপস্থিত ছিল, তারা থাকবে এবং লাভবানও হবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরের মধ্যে তারা পিডিভিএসএর সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদিত দৈনিক ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। কিন্তু অন্য তেল কোম্পানিগুলো যে লাভবান হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাড়াহুড়ো করে করা যেকোনো চুক্তিই ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফটের মতে, ২০২৮ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাত তদারকিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে কি না–সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভবিষ্যতে যদি ডেমোক্র্যাট দল থেকে কেউ ক্ষমতায় আসে, তখন এই সময়ের জ্বালানি চুক্তিগুলো বাতিল হতে পারে।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে অনেক তেল কোম্পানি বিনিয়োগে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। হুগো শাভেজের আমলে রাষ্ট্রীয় জবরদখলের কারণে এক্সন ও কোনোকোফিলিপস বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছিল। অতীতে জব্দ হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা- এক্সন ও কোনোকোর দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প অবজ্ঞাভরে বলেন, “দোষ তাদেরই ছিল।”

এই বিষয়ের কোনো মীমাংসা না হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নতুন পুঁজি আসবে না বলে সতর্ক করছেন এক বিশেষজ্ঞ। আর ভেনেজুয়েলা ঋণের জাল থেকে মুক্ত হতে না পারলে সেই মীমাংসাও একপ্রকার অসম্ভব। তাই এক্সনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস স্পষ্ট করেই বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা ‘বিনিয়োগযোগ্য’ নয়। তার এই মন্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তবু অনেক প্রতিষ্ঠান যেমন: হ্যালিবার্টন, এসএলবি ও বেকার হিউজের মতো তেল-সেবা কোম্পানিগুলো- যারা নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী অঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখে, তারা দুঃসাহস দেখাতে পারে। ছোট ছোট অনেক তেল কোম্পানিও তৎপর আছে। আমেরিকার শেল অঞ্চলের মতোই, ভেনেজুয়েলার অরিনোকোর বিটুমেন বেল্টে অসংখ্য ছোট ক্ষেত্র আছে, যেগুলো তুলনামূলক কম বিনিয়োগে কাজে লাগানো যায়। জনৈক বিশেষজ্ঞের মতে, “এগুলোর জন্য এক্সনের মতো বিশাল ব্যালান্স শিটের দরকার নেই।”

‘গ্রেইট আমেরিকা’ ঘরানার ধনকুবেররাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে অতি ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হ্যারি সার্জেন্ট- তেল ব্যবসার এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, ভেনেজুয়েলায় কোন কোন প্রতিষ্ঠান যাবে, সে বিষয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন। ওকলাহোমার শেল শিল্পের পথিকৃৎ হ্যারল্ড হ্যাম, যিনি আর্জেন্টিনায় তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। তিনি বলেছেন “ভবিষ্যতে ভেনেজুলেয়ায় বিনিয়োগের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন।”

ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগকারীরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারেন। ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অর্থদাতা পল সিঙ্গার পরিচালিত এলিয়ট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট নভেম্বরে আদালতের নির্দেশে হওয়া নিলামে সিটগোর মালিকানা পায়। সিটগো হলো ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএস-এর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রিফাইনিং সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে সিটগোর মূল্য হু হু করে বাড়বে।

অন্য বিনিয়োগকারীরাও ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনরুদ্ধার হলে পরোক্ষ লাভের আশায় থাকতে পারেন। উৎপাদন যদি কখনও ঘুরে দাঁড়ায়, ভবিষ্যতে সরকার হয়তো পুরোনো দেনা মেটাতে আগ্রহী হবে। যেখানে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা, ওয়াল স্ট্রিটের দুঃসাহসী বিনিয়োগকারীরা সেখান থেকে খুব দূরে থাকে না।

(দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত)

বিষয়: আমেরিকাভেনিজুয়েলাপ্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোজ্বালানি তেলডোনাল্ড ট্রাম্পপুঁজিবাদ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ