Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ইউরোপজুড়ে সংকট, প্রশ্নের মুখে কেন মুসলিমরা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ১৩
ইউরোপজুড়ে সংকট, প্রশ্নের মুখে কেন মুসলিমরা?
ইউরোপের শহর (বার্লিন)। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

ইউরোপের অনেক জায়গাতেই চলছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। কোনো দেশে অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সংকট। কিন্তু এই সবকিছুতেই যেন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে মুসলিমরা। কিন্তু কেন?

Advertisement

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে, দেশটির কট্টর ডানপন্থীরা দ্রুতই মুসলিম তরুণদের দায়ী করে বর্ণবাদী বক্তব্য দিতে শুরু করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, প্রতিবেশী মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন স্পেনের কট্টর ডানপন্থীরাও ঘটনাটিকে মরক্কোর নাগরিকদের পরিকল্পিত ‘আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এ নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তার দাবি, বিষয়টি আসলে “ইসলামের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা।”

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফরিদ হাফেজ বলেন, “সংকটকে কাজে লাগিয়ে কট্টর ডানপন্থীরা ইসলামবিদ্বেষ ছড়াবে, এটাই প্রত্যাশিত। তবে ইউরোপের নানা সমস্যার জন্য ইসলাম ও মুসলমানদের দায়ী করার প্রবণতা এখন আর শুধু কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।”

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও ইউরোপে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষোভে কীভাবে লাভবান হচ্ছে উগ্র ডানপন্থীরাA man throws a plastic traffic cone through a burning barricade, France, October 17, 2026. REUTERS

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যখন তীব্র হচ্ছিল, তখন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নীরবে একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ ও মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল’ তৈরির কথা বলা হয়।

প্রস্তাবটি উত্থাপন করে মধ্য-ডানপন্থী ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি)। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এটিই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠী। উরসুলা ফন ডার লায়েনও এই দলের সদস্য।

প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ৩৮১ জন, বিপক্ষে ভোট দেন ১৬৭ জন। ভোটদানে বিরত থাকেন ১৫ জন।

ইপিপির পাশাপাশি আরও চারটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রায় সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। এগুলো হলো- কট্টর ডানপন্থী প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ ও ইউরোপ অব সভরেন নেশনস, উদারপন্থী রিনিউ ইউরোপ এবং ইউরোপীয় কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টস।

সমাজতন্ত্রী, বামপন্থী ও গ্রিন পার্টির সদস্যদের বেশির ভাগই প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। তবে তারা এটি আটকে দিতে পারেননি।

ফরাসি সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে প্রস্তাবটি আনা হয়। প্রতিবেদনটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রস্তাবটিতেও এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান যুদ্ধ, রুশ নিষেধাজ্ঞা, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপEurope Crisis

প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ বলতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ধীরে ধীরে সংগঠিত হওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ এবং নিজেদের আদর্শকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কৌশলকে বোঝানো হয়েছে।

এতে আরও দাবি করা হয়েছে- বিভিন্ন সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, দাতব্য ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে ইসলামপন্থীরা প্রভাব বিস্তার করে। বিশ্ববিদ্যালয়, যুব সংগঠন, বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও এই তালিকায় রয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্য, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার মতো গ্রহণযোগ্য উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিক ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে।

সহজভাবে বললে, প্রস্তাবটিতে অভিযোগ করা হয়েছে- ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করা উদ্যোগের মাধ্যমেও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো নেটওয়ার্ক ইউরোপীয় সমাজে ‘অনুপ্রবেশ’ করতে পারে।

তবে এই প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোকে এটি বাস্তবায়ন করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নতুন লড়াইArtic sea

হাফেজের মতে, মুসলিম ব্রাদারহুড এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকায় রাখার আহ্বানও পুরো ইউরোপে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতা ব্যবহার না করার অবস্থান নিয়েছে এই সংগঠন।

প্রতীকী দিক থেকে এই প্রস্তাব ইউরোপের মুসলিমবিরোধী ডানপন্থী শক্তিগুলোর জন্য বড় জয়। এটি দেখায়, মধ্য-ডানপন্থীরা কট্টর ডানপন্থীদের আরও কাছাকাছি চলে আসায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টও তাদের ঠেকিয়ে রাখার নীতি থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। ইপিপি প্রায় পুরোপুরি কট্টর ডানপন্থীদের এজেন্ডা গ্রহণ করেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তারা এসব বিষয়কে জাতীয় নিরাপত্তার ভাষায় তুলে ধরছে।

প্রস্তাবটি আরও দেখায়, ইউরোপে ইসলামবিদ্বেষের ধরন কীভাবে বদলেছে। আগে আশঙ্কা ছিল, অভিবাসীরা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ এবং তারা সমাজের সঙ্গে ‘একীভূত’ হতে পারবেন না। এখন আশঙ্কার বিষয় হয়ে উঠেছেন সেই মুসলমানেরা, যারা নিজেরাই নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পারেন এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় সোচ্চার হতে পারেন।

মধ্য-ডানপন্থীদের জন্য ইসলামবিদ্বেষী এই দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক সুবিধাও নিয়ে আসে। মুসলমানদের নিয়ে ভয় ছড়িয়ে তারা নির্বাচনে সমর্থন পাওয়ার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো বামপন্থীদের আক্রমণ করারও সুযোগ তৈরি হয়।

‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবের ভিত্তি দুর্বল হলেও, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রক্ষণশীল রাজনৈতিক জোটগুলো আরও পদক্ষেপ নিতে পারে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে মুসলমানদের কর্মকাণ্ড সীমিত করতে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যেগুলোর আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে, মুসলমানদের নাগরিক অধিকার রক্ষার উদ্যোগগুলো এর লক্ষ্য হতে পারে।

এদিকে, সামাজিক নানা সমস্যার জন্য ইসলামকে দায়ী করে ভয় ছড়ানোর চেষ্টা চলতে পারে। কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভকেও ইসলামবিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। নিজেদের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে রাজনীতিকেরা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দায় চাপাতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে সবার নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা দৃঢ়ভাবে রক্ষায় জোরালো অবস্থান নেওয়া জরুরি।

বিষয়: আন্দোলনমুসলিমসংকটইউরোপ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ