Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

যে রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ ভয় পায় না

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৮: ৩২
যে রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ ভয় পায় না

ভয় পাওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। বিপদের সংকেত পেলেই শরীর ও মন আমাদের আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের মস্তিষ্ক ভয় বুঝতেই পারে না। তাদের জীবনে নেই আতঙ্ক, নেই উত্তেজনা—যেন ভয় নামের অনুভূতিটিই মুছে গেছে অস্তিত্ব থেকে।

Advertisement

ব্রিটেনের নাগরিক জর্ডি সারনিক সেই বিরল মানুষদের একজন। কুশিংস সিনড্রোম নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীর থেকে অতিরিক্ত কর্টিসল নিঃসৃত হচ্ছিল। এতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের আশঙ্কা তৈরি হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে জর্ডির অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অপসারণ করা হয়, যাতে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিনের নিঃসরণ বন্ধ হয়। চিকিৎসা সফল হয়েছিল, তবে প্রভাব পড়েছিল অন্যভাবে। তার উদ্বেগ কমে গেলেও তিনি বুঝলেন তিনি আর ভয় পান না।

২০১২ সালে ডিজনিল্যান্ডে রোলার কোস্টারে চড়ার সময় জর্ডি টের পেলেন, অন্যরা চিৎকার করলেও তার হৃদস্পন্দন একটুও বাড়ছে না। এরপর তিনি উড়োজাহাজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন, ব্রিজ থেকে ঝুলে পড়েছেন, উঁচু ভবন বেয়ে নেমেছেন সম্পূর্ণ ভয়হীনভাবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেন, ভয়হীনতার এই অভিজ্ঞতা জর্ডির একার নয়। এমন আরও কিছু মানুষ আছেন, যারা আর্বাখ–উইথ রোগে ভুগছেন। জিনগত এই বিরল রোগে আক্রান্ত ৪০০ মানুষ এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে। এই রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের একটি অংশ অ্যামিগডালাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এটি ভয় প্রক্রিয়াকরণের প্রধান কেন্দ্র।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই রোগের সবচেয়ে বিখ্যাত রোগী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী, যিনি গবেষণায় পরিচিত ‘এসএম’ নামে। আশির দশক থেকে তিনি আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় হয়ে আছেন। বিজ্ঞানীরা তাকে ভয় দেখানোর জন্য বেশ কয়েকটি ভৌতিক সিনেমা দেখিয়েছেন। তবু তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এমনকি অন্ধকার ভূতুড়ে ভবনে নিয়ে গেলেও তিনি হাসিমুখে ঘুরেছেন।

গবেষণা সংস্থা ফ্লোট রিসার্চ কালেক্টিভের গবেষক জাস্টিন ফেইনস্টাইন বলেন, ‘আমরা তাকে (এসএম) সাপ ও মাকড়সার সামনে দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু ভয় না পেয়ে তিনি বরং এগিয়ে গিয়ে সেগুলো ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছেন। তার মধ্যে ভয় নয়, কৌতূহল কাজ করত।’

আর্বাখ–উইথ রোগের ফলে অ্যামিগডালা নষ্ট হলে ভয় অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। তবে আনন্দ, রাগ, বা দুঃখের মতো অন্য আবেগ প্রায় ঠিক থাকে। ফলে এই রোগীরা অত্যন্ত মিশুক ও নির্ভীক হয়ে ওঠেন, কিন্তু একই সঙ্গে বিপদ এড়ানোর ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। এসএম নিজেও একাধিকবার ছুরি ও বন্দুকের মুখে পড়েছেন, তবুও বিপদের আশঙ্কা অনুভব করেননি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভয় এক ধরনের শিখন পদ্ধতির মধ্যে দিয়েও হয়। যেমন কেউ গরম পাত্রে হাত দিলে পরবর্তীতে সেই কাজটি এড়িয়ে চলে। কিন্তু এসএম-এর ক্ষেত্রে এই শর্তযুক্ত ভয় তৈরি হয়নি।

অ্যামিগডালার আরেকটি ভূমিকা হলো সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসএম অপরিচিত মানুষের খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াতেও অস্বস্তি বোধ করেন না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অ্যামিগডালা মানুষের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সামাজিক দূরত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে ভয় কেবল বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ ভয়ও আছে। যেমন দম বন্ধ হওয়ার আতঙ্ক। এক পরীক্ষায় এসএম-কে কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত বাতাস শ্বাস নিতে দেওয়া হয়। সবাই ভেবেছিল তিনি ভয় পাবেন না, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিনি তীব্র আতঙ্কে আক্রান্ত হন। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি প্রমাণ করে অ্যামিগডালা সব ধরনের ভয় নিয়ন্ত্রণ করে না। যেমন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইনস্টেম নামের মস্তিষ্কের অন্য অংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয় মানুষের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য প্রতিক্রিয়া। অ্যামিগডালা ধ্বংস হলে মানুষ দ্রুত মারা যায়, কারণ তারা বিপদ চিনতে পারে না।

তবুও, এসএম আধুনিক সমাজে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বেঁচে আছেন। একেবারে ভয়হীনভাবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

বিষয়: বিরলবিজ্ঞানস্বাস্থ্যঝুঁকিরোগস্বাস্থ্যগবেষণাগারগবেষণা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ