Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধে আসলে কী চায় আমেরিকা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৪০
ইরান যুদ্ধে আসলে কী চায় আমেরিকা

ইরান যুদ্ধ থামেনি। থমকে আছে মাত্র। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কীভাবে হবে তা নিয়ে সন্দেহ গভীর হচ্ছে। কিন্তু এই যুদ্ধ থেকে আসলে কী পেতে চায় আমেরিকা তা নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন ব্রাজিলের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য ক্রেডেলে তিনি লিখছেন, এই যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি বদলাচ্ছে না। এটি ইউরেশিয়ার সংযোগ করিডোরগুলোকে প্রভাবিত করছে। চারটি বড় প্রকল্প এখানে গুরুত্বপূর্ণ– চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, রাশিয়া-ইরান-ভারত করিডোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর এবং তুরস্কের পাইপলাইন পরিকল্পনা।

Advertisement

ইতিহাসে ইরান ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগস্থল। ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন সিল্ক রোড শুরু করেন। এর মাধ্যমে এই সংযোগ আবার শক্তিশালী হয়। ২০২১ সালে চীন ও ইরানের মধ্যে বড় একটি চুক্তি হয়। ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার। এরই একটি অংশ হলো স্থলপথ করিডোর। এটি সমুদ্রপথের বিকল্প। মালাক্কা, হরমুজ ও সুয়েজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়ানো যায়। চীনের সিয়ান থেকে ট্রেন সরাসরি ইরানে পৌঁছায়। এতে সময় কমে ৪০ দিন থেকে ২৫ দিনে নেমে এসেছে।

এই করিডোর চীন-পাকিস্তান করিডোরের গুরুত্বও বদলাচ্ছে। যুদ্ধের আগে চীন ইরান করিডোরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল। কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরান আসলে দুটি বড় করিডোরের কেন্দ্রে। একটি চীন-চালিত পূর্ব-পশ্চিম পথ। অন্যটি রাশিয়া-ইরান-ভারত সংযোগ। ইরান এই দুই দিকেই ভারসাম্য রাখছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত সেই ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

কোথায় আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা?US-Iran-talk01

চাবাহার বন্দর এই খেলায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের জন্য একটি বড় প্রকল্প। এটি গাওয়াদার বন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এখন ভারত তার বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। মার্কিন চাপ এর একটি কারণ। অন্যদিকে চীন তার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইরানের উপকূলে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ফলে ইরান হয়তো চীনের দিকেই বেশি ঝুঁকবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Iran-US-Diplomacy
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসকোবার মনে করেন, এটি আসলে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর লক্ষ্য ইসরায়েলকে বাণিজ্যের কেন্দ্রে আনা। এটি পশ্চিমা বিশ্বের একটি প্রয়াস। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রকল্প এখন দুর্বল। হাইফা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য অবকাঠামোও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

তুরস্কও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায়। তারা ইরাক থেকে তেল নিয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু ইরাকের রাজনৈতিক সমস্যা এটি থামিয়ে রেখেছে। তুরস্ক সিরিয়ার তেলক্ষেত্রকেও যুক্ত করতে চায়। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত।

আরেকটি বড় পরিকল্পনা হলো কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে গ্যাস পাইপলাইন। এটি অনেক পুরোনো ধারণা। কিন্তু এখন আবার আলোচনায় এসেছে। এতে বহু দেশ জড়িত। খরচও অনেক বেশি। অন্তত দেড় হাজার কোটি ডলার লাগবে।

ইরান এখন চালায় কারা?iran khamenei

এসকোবারের মতে, আমেরিকার হামলার লক্ষ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইরানের কিছু বড় বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। এগুলো মূলত বড় বাণিজ্য করিডোরের অংশ। চীন-ইরান রেললাইনও আঘাত পেয়েছে। তাই তিনি মনে করেন, এটি শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়। এটি চীন, ব্রিকস এবং ইউরেশীয় সংযোগের বিরুদ্ধেও একটি যুদ্ধ।

তবুও এই সংযোগ থেমে নেই। বরং পথ বদলাচ্ছে। পাকিস্তানের উদাহরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা নতুন রুট ব্যবহার করে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। আফগানিস্তানকে পাশ কাটিয়ে নতুন সংযোগ তৈরি করছে। এতে ইরানের অর্থনীতি কিছুটা সহায়তা পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে এসকোবার বলছেন, ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতা হবে সংযোগ করিডোর নিয়ে। পশ্চিম এশিয়া থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। নতুন একটি পথও গুরুত্ব পাচ্ছে– আর্কটিক সিল্ক রোড। রাশিয়ার উপকূল ধরে এই পথ তৈরি হচ্ছে। চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এতে আগ্রহী।

শেষ কথা হলো, এই যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ নয়। এটি বাণিজ্য, জ্বালানি ও সংযোগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই। এসকোবারের বার্তা পরিষ্কার—যুদ্ধ নয়, সংযোগ তৈরি করাই ভবিষ্যতের পথ।

বিষয়: সংঘাতআমেরিকাইরানমধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধবাণিজ্যচীনএশিয়া
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ