Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

রুবিডিয়াম: যে ধাতু চীনকে নিল অনন্য উচ্চতায়

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১৭: ৫৭
রুবিডিয়াম: যে ধাতু চীনকে নিল অনন্য উচ্চতায়

দক্ষিণ চীনে রুবিডিয়ামের এক বিশাল আকরিক মজুত এবং এই বিরল ধাতু নিষ্কাশনের এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্পে চীনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। সিনহুয়া এবং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হেয়ুয়ান শহরে প্রায় ১.৭৫ লাখ টন রুবিডিয়াম আকরিকের একটি বিশাল মজুত খুঁজে পাওয়া যায়।

Advertisement

গুয়াংডং প্রদেশের খনি সমিতি এই মজুতের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং চায়না মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন এটিকে বিশ্বের প্রথম ‘বিশুদ্ধ’ রুবিডিয়াম আকরিক মজুত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর আগে রুবিডিয়াম সাধারণত অন্যান্য খনিজের সাথে সহযোগী উপাদান হিসেবে পাওয়া যেত। কিন্তু হেয়ুয়ানের এই খনিটি এককভাবে রুবিডিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রুবিডিয়াম একটি অত্যন্ত নরম, রূপালী-সাদা ক্ষারীয় ধাতু যা পারমাণবিক ঘড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি, পেপস্কাইট সৌর কোষ এবং উন্নত চিকিৎসা গবেষণার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অপরিহার্য। হেয়ুয়ানের এই মজুতে রুবিডিয়ামের পাশাপাশি টিন, টাংস্টেন, সীসা, দস্তা, তামা এবং সোনার মতো আরও দশটিরও বেশি খনিজ পাওয়া গেছে, যা এই এলাকাটিকে একটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করেছে।

রুবিডিয়ামের গুরুত্ব এবং এর উৎপাদন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কিংহাই ইনস্টিটিউট অব সল্ট লেকস এবং চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর গবেষকেরা অত্যন্ত নিম্নমানের লবণাক্ত জল বা ‘ব্রাইন’ থেকে ৯৯.৯% বিশুদ্ধ রুবিডিয়াম ক্লোরাইড নিষ্কাশনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পটাশিয়াম ক্লোরাইডের উপজাত হিসেবে পাওয়া উপাদান থেকে, যেখানে রুবিডিয়ামের ঘনত্ব ছিল মাত্র ০.০০১%, সেখান থেকে এই উচ্চ বিশুদ্ধতার ধাতু নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে এত কম ঘনত্বের উৎস থেকে রুবিডিয়াম সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে অসম্ভব বলে মনে করা হতো। চীনের জন্য এই সাফল্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি দীর্ঘকাল ধরে রুবিডিয়ামের জন্য বিদেশের ওপর, বিশেষ করে কানাডার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, চীনের প্রয়োজনীয় রুবিডিয়ামের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৬.৩% কানাডা এবং জিম্বাবুয়ের মতো দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। ২০২১ সালে চীন ১৯,৫০০ টনেরও বেশি রুবিডিয়াম কনসেনট্রেট আমদানি করে। তবে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র রুবিডিয়ামকে তাদের ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর এর সরবরাহ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়।

চীনের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশেষজ্ঞ হে সিনইউর মতে, চীনের অধিকাংশ রুবিডিয়াম মজুত অত্যন্ত কঠিন শিলাস্তরে আটকা পড়ে আছে, যা নিষ্কাশন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মাত্র ৩% রুবিডিয়াম সহজলভ্য উৎস যেমন লবণাক্ত হ্রদ বা ভূ-তাপীয় জলে পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে কিংহাই ইনস্টিটিউটের নতুন উদ্ভাবন চীনের সম্পদ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।

রুবিডিয়ামের ব্যবহারিক প্রয়োগের কথা বলতে গেলে, এটি আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর উপাদান। রুবিডিয়াম আকরিক বা এর বিশুদ্ধ রূপ কেন এত মূল্যবান তা এর কর্মক্ষমতা থেকেই স্পষ্ট হয়। এই ধাতু দিয়ে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি বা অ্যাটমিক ক্লক এতটাই নিখুঁত যে এটি ৩.৭ মিলিয়ন বা ৩৭ লাখ বছরেও এক সেকেন্ডের কম সময় হারায়। এই নিখুঁত সময় পরিমাপ জিপিএস সিস্টেম, টেলিকমিউনিকেশন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

রুবিডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৭, যার অর্থ এর একটি পরমাণুতে ৩৭টি প্রোটন এবং একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে ৩৭টি ইলেকট্রন থাকে।
রুবিডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৭, যার অর্থ এর একটি পরমাণুতে ৩৭টি প্রোটন এবং একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে ৩৭টি ইলেকট্রন থাকে।

এছাড়া মহাকাশযান পরিচালনা এবং বিশেষ ধরনের কাচ তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে টিউমার কোষের ইমেজিং বা ছবি তোলার জন্য রুবিডিয়ামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আবার সাধারণ মানুষের জীবনেও এর উপস্থিতি আছে–আতশবাজিতে যে গাঢ় লাল বা সিঁদুরে লাল রঙ দেখা যায়, তা মূলত রুবিডিয়ামের কারণে সৃষ্টি হয়। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, রুবিডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৭, যার অর্থ এর একটি পরমাণুতে ৩৭টি প্রোটন এবং একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে ৩৭টি ইলেকট্রন থাকে। এটি অত্যন্ত সক্রিয় একটি ধাতু এবং জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই হিংস্রভাবে বিক্রিয়া করে রুবিডিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে। মানুষের ত্বকের আর্দ্রতার সাথেও এটি দ্রুত বিক্রিয়া করে মারাত্মক দহন সৃষ্টি করতে পারে বলে একে কিছুটা বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই অতি-সক্রিয়তা এবং বিরলতার কারণেই রুবিডিয়াম অত্যন্ত দামি; মাত্র ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ রুবিডিয়ামের বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৫৭ ডলারের কাছাকাছি। সেই হিসাবে হেয়ুয়ানের যে রুবিডিয়ামে সন্ধান চীন পেয়েছে তার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে চীনের মোট অর্থনীতির পরিমাণ হলো ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে বোঝাই যায়, কত মূল্যবান আকরিককে চীনের বিজ্ঞানিরা মাটির তলা থেকে খুঁজে বের করেছেন।

মিয়ানমারের বিরল খনিজ চীনের ‘হাতে’, কী ভাবছে আমেরিকা?myanmar china

কিংহাই ইনস্টিটিউটের গবেষকরা যে নতুন ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সেপারেশন বা বিদ্যুৎ-রাসায়নিক পৃথকীকরণ পদ্ধতি তৈরি করেছেন, তা কেবল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং খরচও নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনবে। ২০২২ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত রুবিডিয়াম ক্লোরাইড বর্তমান বাজার মূল্যের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ খরচে তৈরি করা সম্ভব। এই গবেষণাটি ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং কিংহাই প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে, যা চীনের শিল্প সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার শক্তি বৃদ্ধি করবে।

সবশেষে বলা যায়, দক্ষিণ চীনের এই বিশাল খনি আবিষ্কার এবং নতুন নিষ্কাশন প্রযুক্তি চীনকে রুবিডিয়ামের বৈশ্বিক বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। যেখানে আগে চীন আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন তারা নিজেরাই ৯৯.৯% বিশুদ্ধ ধাতু উৎপাদন করে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জিপিএস অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি কেবল একটি খনিজ আবিষ্কার নয়, বরং চীনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিষয়: বিরলচীনআবিষ্কারপ্রযুক্তি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ