
ওরিয়ন ক্যাপসুলের ছোট জানালার ওপাশে তখন আদিগন্ত নীল রঙের এক গোলক। যে ধুলিকণায় আমাদের সব আনন্দ, সব বেদনা—সেই পৃথিবী থেকে তখন ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছেন চারজন মহাকাশচারী।

তাদের এই ১০ দিনের সফরের সফল সমাপ্তিই ঠিক করে দেবে, পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে বসতি গড়তে পারবে কি না। সারা বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ১০ এপ্রিলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন ওরিয়ন সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাল আমেরিকা। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।

দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির অপেক্ষায়। লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন জানিয়েছেন, কারিগরি ও আবহাওয়াগত দিক থেকে মিশনটি এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

চ্যাট-জিপিটি কিংবা এআই, এইসব চালাতে যে ডাটা সেন্টার দরকার, সেটা জায়গা এবং কারেন্টের অভাবে এখন দুনিয়ায় চালানো দায়! এই সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য ইলন মাস্ক এখন নজর দিইয়েছেন মহাকাশে। মহাকাশে ডাটা সেন্টার পাঠাইলে কি আসলেই খরচ কমাবে?

দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের সুস্থ রাখতে তৈরি হচ্ছে নতুন ডিভাইস HIFIm। এটি ব্যবহার করে শূন্য মহাকর্ষেও শতাধিক ধরনের ব্যায়াম করা সম্ভব। ছোট ও বিদ্যুৎবিহীন এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে কাজে লাগতে পারে।

স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপে সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে শক্তির বার্তা দেয় মির স্পেস স্টেশন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেয় এই স্টেশন। মির হয়ে ওঠে আধুনিক মহাকাশ স্টেশনের ধারণার ভিত্তিপ্রস্তর।

মহাকাশ অভিযানে বিপ্লব আনতে এসেছে এমন রকেট যা উড়তে উড়তে নিজের কাঠামো ব্যবহার করে। ওজন কমিয়ে এটি কম খরচে আরও দূর ও জটিল কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাতাদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনের ধারণাই বদলে দিতে পারে।

এর আগে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হতে যাচ্ছে মানবজাতির সবচেয়ে বড় চন্দ্র অভিযান।

জেএএক্সএ (JAXA) নভোচারী কিমিয়া ইউই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে রোববার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে পৃথিবীর ওপর অরোরা বা মেরুজ্যোতির মনোমুগ্ধকর রঙ দেখা যাচ্ছিলো। অরোরা নর্দার্ন লাইটস নামেও পরিচিত। সূর্য থেকে তড়িতাহিত সৌরকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করলে তৈরি হয় অরোরা।

বছরের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। ১২ জানুয়ারি বহু প্রতীক্ষিত PSLV-62 রকেটের উৎক্ষেপণ মিশনটি মাঝপথেই থেমে যায়। একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে রকেটটি তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হলেও কক্ষপথে পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণ হারায় রকেট। এর ফলে এই উপগ্রহবাহী রকেটে থাকা ১৬টি উপগ্রহই মহাকাশে হারিয়ে গিয়েছে।

পৃথিবীর কয়েকশ মাইল উপরে, চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শেনঝু-২১ মিশনের সাহসী নভোচারীরা। মিশন কমান্ডার ঝাং লু এবং নভোচারী উ ফেই ও ঝাং হংঝাং ইতিমধ্যে কক্ষপথে ৭০ দিনের বেশি সময় কাটিয়ে ফেলেছেন। গত এক সপ্তাহে তারা সম্পন্ন করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর কাজ।

মিশেলার এই পথ সহজ ছিল না। ২০১৮ সালে একটি মাউন্টেন বাইকিং দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার মেরুদণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই চলাচলের জন্য হুইলচেয়ারই হয় তার একমাত্র সঙ্গী।

মিশেলার এই পথ সহজ ছিল না। ২০১৮ সালে একটি মাউন্টেন বাইকিং দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার মেরুদণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই চলাচলের জন্য হুইলচেয়ারই হয় তার একমাত্র সঙ্গী।