
ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব নিশ্চিতও করে না, আবার অস্বীকারও করে না। কার্যত, এই অস্পষ্টতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আর তা হলো, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে এগুলো ব্যবহার করবে?

মার্কিন সাংবাদিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিওন হাডারের বিশ্লেষণে একটি কেন্দ্রীয় থিম বারবার ফিরে আসে—যুক্তরাষ্ট্র তার অতীত থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, বিশেষ করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হাডারের মতে কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং

পারমাণবিক অ/স্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের বর্তমান অবস্থান থেকে কখনোই সরবে না উত্তর কোরিয়া। অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পারমাণবিক অ/স্ত্র কমানোর প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়াকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যা দিয়ে যেকোনো অপচেষ্টায় কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও মিশর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতার-ভিত্তিক সংস্থা আল জাজিরা খবরে বলা হয়েছে, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, নাতানজের ‘শহীদ আহমাদি রোশান’ সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক মনে হয়। একটি শক্তিধর দেশ প্রায় চার বছর ধরে তার প্রতিবেশীকে দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

ইরানের অন্যতম প্রধান এবং স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনা ‘নাতাঞ্জে’ আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।

ইরানে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে বার্সেলোনায় প্রবাসী ইরানিরা বিক্ষোভ করেছেন। পারমাণবিক আলোচনা ও সামরিক হুমকিতে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

সামরিক উত্তেজনা হয়তো ইরানকে আপসে রাজি করাতে পারে। অথবা উল্টোভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবু, আলোচনা ব্যর্থ হলেও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনা কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ইরান এখনো নির্ধারিত কিছু ‘রেড লাইন’ মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলবে, তবে প্রয়োজনে সামরিক বিকল্প খোলা আছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী অস্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই এই ঘোষণা দিল তেহরান।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং বড় দেশগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব থাকায় বিশ্ব এখন একটি অনিশ্চিত সময়ের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের এই নিয়ন্ত্রণহীনতা ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরা।