Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

এই ফল কি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা?

ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান

ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩৩
এই ফল কি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা?
প্রতীকী ছবি

আজ কারও ঘরে আনন্দ, কারও ঘরে হয়তো নিঃশব্দ কান্না। কেউ জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন।

Advertisement

কিন্তু এই আনন্দের ছবির ঠিক উল্টো পাশে আরেকটি ছবি আছে। সেখানে হয়তো একটি কিশোর বা কিশোরী ঘরের এক কোণে মুখ গোমড়া করে বসে আছে। চোখে পানি, মনে ভয়-পরিবার কী বলবে, বন্ধুরা কী ভাববে, আত্মীয়স্বজনের সামনে মুখ দেখাবে কীভাবে, সামনে তার কী হবে?

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকের পেছনে আছে একটি মুখ, একটি পরিবার এবং অনেক স্বপ্ন। তাই ফলাফল নিয়ে আলোচনার শুরুতেই আমার

প্রশ্ন-তাদের ব্যর্থতার দায় কি শুধুই তাদের?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২০ শতাংশ পয়েন্টের বেশি। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

প্রতি ১০ জন পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪ জন ন্যূনতম উত্তীর্ণতার মান অর্জন করতে পারেনি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শুধু ‘ফেল করা শিক্ষার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা কি দায় এড়িয়ে যেতে পারি?

একটি শিশু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর এসএসসি পর্যন্ত প্রায় এক দশক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে থাকে। এই সময়ে তাকে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের; উপযুক্ত শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং শেখার পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব পরিবারের। তাহলে ১০ বছর পর সেই শিশু যদি কাঙ্ক্ষিত শিখনদক্ষতা অর্জন করতে না পারে, তার ব্যর্থতা একা তার হয় কী করে?

এসএসসির ফল: বেড়েছে শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাfailed student motif

এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ থেকে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশের মধ্যে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সাতটিতেই ইংরেজিতে পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে। গণিতেও বোর্ডভেদে পাসের হার ৬৯ দশমিক ৬১ থেকে ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কিন্তু ইংরেজি বা গণিতের এই দুর্বলতা কি দশম শ্রেণিতে হঠাৎ তৈরি হয়েছে? একটি শিশু যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ঠিকমতো পড়তে, বুঝতে বা মৌলিক গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে না শেখে, তাহলে নবম-দশম শ্রেণিতে এসে কয়েক মাসের পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন।

এখন খুব সহজেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে শিক্ষক কী করেছেন? শিক্ষকের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু শিক্ষকদের শুধু কাঠগড়ায় দাঁড় করালেই কি আমাদের দায়িত্ব শেষ? আমরা তাদের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা চাই। কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, একাডেমিক সহায়তা, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত প্রণোদনা কতটা দিতে পেরেছি? শিক্ষকসংকট, পাঠদানের ধারাবাহিকতা, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, দীর্ঘদিনের শিখনঘাটতি, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ-সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধান প্রয়োজন সেই ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফাইল ছবি
অনুসন্ধান প্রয়োজন সেই ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফাইল ছবি

বিশেষভাবে অনুসন্ধান প্রয়োজন সেই ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। একটি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে সেটি শুধু পরীক্ষার্থীর ব্যর্থতা হতে পারে না। সেখানে শিক্ষক ছিলেন কি না, নিয়মিত পাঠদান হয়েছে কি না, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল কি না, প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি কী করেছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকি কেমন ছিল-প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে, আগের বছরগুলোতে বেশি পাসের হার কি রাজনৈতিক কারণে হতো? প্রমাণ ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ করা ঠিক হবে না। তবে আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যাকে শিক্ষার সাফল্যের প্রধান সূচক হিসেবে তুলে ধরার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। কতজন সত্যিকার অর্থে শিখল, তার চেয়ে কতজন পাস করল-সেটিই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫SSC

আবার এবার পাসের হার কমেছে বলেই মূল্যায়ন শতভাগ সঠিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না। প্রয়োজন বিষয়ভিত্তিক, বোর্ডভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলের গভীর বিশ্লেষণ। প্রশ্নপত্রের কঠিনতার মাত্রা, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে প্রশ্নের সামঞ্জস্য এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে ধারাবাহিকতা ছিল কি না, সেটিও দেখতে হবে। সঠিক মূল্যায়ন মানে বেশি নম্বর দেওয়া নয়, আবার কঠোরভাবে নম্বর কেটে নেওয়াও নয়। একজন শিক্ষার্থী সত্যিকার অর্থে যতটুকু শিখেছে, তার যথাযথ প্রতিফলনই সঠিক মূল্যায়ন।

এখন প্রয়োজন দোষী খোঁজা নয়, সমাধান খোঁজা। সরকারের উচিত দ্রুত একটি বিস্তারিত ‘পোস্ট-রেজাল্ট অ্যানালাইসিস’ করা। কোন বিষয়ে, কোন অঞ্চলে এবং কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। ইংরেজি ও গণিতসহ দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে। শূন্য পাস করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, একাডেমিক সহায়তা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রাজশাহীতে এসএসসিতে ফেল করায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাsuicide

তবে আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের পাশে দাঁড়ানো, যারা পাস করতে পারেনি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ-আজ সন্তানকে বকবেন না, অপমান করবেন না, পাশের বাড়ির সন্তান কিংবা তার বন্ধুর সঙ্গে তুলনা করবেন না। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে একটি মানুষের সামর্থ্য কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় না। তার পাশে বসুন। তার কথা শুনুন। তাকে বলুন, “তুমি আবার চেষ্টা করবে, আমরা তোমার পাশে আছি।”

বিদ্যালয়ও দায়িত্ব এড়াতে পারে না। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং, বিষয়ভিত্তিক সহায়তা ও পুনঃপ্রস্তুতির ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজকেও তাদের ‘ব্যর্থ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অকৃতকার্য? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু শিক্ষার্থীকে নয়-রাষ্ট্রকে, বিদ্যালয়কে, শিক্ষককে, পরিবারকে এবং সমাজের সুবিধাভোগী নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেককেই দিতে হবে।

লেখক: শিক্ষা গবেষক ও নীতি বিশ্লেষক

বিষয়: এসএসসিশিক্ষাশিক্ষার্থীপরীক্ষা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন