Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

ছড়া–গানেই অমর হয়ে থাকবেন আখতার হুসেন

রাশেদুর রহমান

রাশেদুর রহমান

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩০
ছড়া–গানেই অমর হয়ে থাকবেন আখতার হুসেন
ছড়াকার আখতার হুসেন। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার আখতার হুসেন, প্রিয় আখতার ভাই আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন। প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি শিশুতোষ ছড়ার যে ভুবন তৈরি করছিলেন, তার সমাপ্তি হলো। ছড়া লিখে সবার মন অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে অনন্তের পথে চলে গেলেন।

Advertisement

২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

আখতার হুসেন ছড়ার পাশাপাশি গল্প–কবিতা ও গানও লিখেছেন। তার কয়েকটি গান ছিল উদ্দীপনা জাগানো। আর কোনো দিন তিনি ছড়া, গল্প বা গান লিখবেন না। তার মৃত্যুতে দেশের শিশুসাহিত্যে সৃষ্টি হলো বিরাট এক শূন্যতা।

শুধু এক প্রজন্ম নয়, বহু প্রজন্মের শিশুর শৈশবের সঙ্গে মিশে আছে আখতার হুসেনের ছড়া। তার ছড়া পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার সময় শব্দের সঙ্গে খেলতে খেলতে এগিয়ে যেতে পারে, তার ছড়ায় ছিল সেই স্বাভাবিক ছন্দ। ছড়ার ভাষা ছিল খুব সহজ ও স্বাভাবিক। অসংখ্য শিক্ষার্থীর মনের মধ্যে তার ছড়া জায়গা করে নিয়েছে। ছড়া, গল্প ও গানে তিনি শিশুদের জগৎকে সুন্দর ও সাহসী করে তুলেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তার লেখা একটি কালজয়ী গান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’ গানটি স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে। শিল্পী তিমির নন্দীর গাওয়া এই গানটির সুর দিয়েছিলেন সুরকার অজিত রায়।

আখতার ভাই স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পর কাজের সন্ধানে জার্মানি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সম্ভবত ১৯৮৩–৮৪ সালে ফিরে আসেন। আমি তখন সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীতে কাজ করি। একদিন সেখানে আসেন আখতার ভাই। তার ছড়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম আগেই। সেদিন তার সঙ্গে আমার সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। সেই পরিচয় ক্রমে আরও গভীর হয়। তিনি বয়সে আমার অনেক বড় ছিলেন। কিন্তু মিশতেন বন্ধুর মতো। পরবর্তীতে অনেক বছর আমরা সহকর্মী ছিলাম। তিনি আমার প্রিয় মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আমাকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সে হিসেবে তিনি আমার গুরুর মতো। অনেক মজার স্মৃতি আমার তার সঙ্গে। তার ভালোবাসা ও মানবিক রূপ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।

আখতার হুসেন অনেক দিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তাকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে আখতার হেসেন আর আমাদের মাঝে নেই। দুপুর ১টা নাগাদ তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

মৃত্যুসংবাদটি শুনে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। যেকোনো মৃত্যুর খবরই ভারী, কিন্তু যে মানুষটির স্নেহের সঙ্গে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আত্মিক টান তৈরি হয়েছিল, তার চিরবিদায়ের সংবাদটি বুকের মধ্যে অন্য রকম এক হাহাকার তৈরি করেছিল।

আখতার হুসেন, আমাদের আখতার ভাই অত্যন্ত সাদাসিধে, আন্তরিক ও সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন। শিশুতোষ লেখা লিখতেন, তাই হয়তো তার স্বভাবও ছিল শিশুসুলভ। খুব সহজে অন্যের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। খ্যাতির মোহে তিনি পড়েননি। আপন মনে নিজের কাজ করে গেছেন।

তিনি নিয়মিত বই কিনতেন, পড়তেন। কারও কাছে দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সন্ধান পেলে ফটোকপি করে সংগ্রহ করতেন। তার আয়ের একটা অংশ তিনি ব্যয় করতেন বই কিনতে। আমাকেও অনেক বই তিনি সংগ্রহ করে দিয়েছেন।

আখতার হুসেন ছাত্রজীবনে বাম চিন্তাধারায় যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। জড়িত ছিলেন শিশুসংগঠন খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে। খেলাঘরের সঙ্গে জড়িত থাকাকালে সংগঠক হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। সংগঠনটির প্রথম দিকের বহু নাটক রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন তিনি।

ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের জনপ্রিয় সংগঠন সংগীত ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ তারই লেখা।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ তিনি সর্বাধিকসংখ্যক লেখা (ভুক্তি) লিখে বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছেন।

আখতার হুসেন পৈতৃক নিবাস নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা টি আই এম সিকান্দার ও মা আয়শা খাতুন। বাবার রেলওয়ের চাকরিসূত্রে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে খুলনা, গফরগাঁও, কুলাউড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

৮১ বছর বয়সে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এই জীবনে তিনি আমাদের অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। ছড়া ও শিশুতোষ মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ, সম্পাদিত গ্রন্থসহ তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘আমার দুটো ডানা’, ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ও ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।

তার ছড়ার ভাষা ছিল সহজ, প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক। তার অনেক ছড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে।

এসব গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি অমর হয়ে থাকবেন। থেকে যাবেন শিশুদের নির্মল চিত্তে। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

লেখক: সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

বিষয়: সাহিত্যশিশুবাংলাদেশ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন