Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

ডাকসু: গণতন্ত্রের অনুশীলন নাকি ক্ষমতার কৌশল?

মাহ্ফুজ সরকার

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ০৪
ডাকসু: গণতন্ত্রের অনুশীলন নাকি ক্ষমতার কৌশল?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মূলত অগণতান্ত্রিক অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই এই উদ্যোগগুলো আমরা লক্ষ্য করি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারও কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনের চর্চাটি অব্যাহত রাখবে? চলুন দেখি, অতীত ‍কী বলে।

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম সংগঠিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৯২৩-২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ডিইউএসইউ। কিন্তু শুরু থেকেই এই সংগঠন পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কার্যকরী পরিষদে শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব ছিল, সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন শিক্ষকরা। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নটি দ্রুতই সামনে আসে।

১৯৩৯ সালে শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নে আন্দোলনে নামে। তিন দিনের অনশনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে আগের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ গ্রহণ করা হয়। ১৯৫৩ সালেই প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভোটে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রথম সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন যথাক্রমে এস. এ. বারী ও জুলমত আলী খান। এটি কেবল একটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও ছিল।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী সংসদ কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জায়গা হয়ে ওঠেনি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও ছাত্র সংসদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই ডাকসু শিক্ষার্থীদের সংগঠন থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এ কারণেই ডাকসুকে অনেক সময় বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় সংসদ’ বলা হয়। কিন্তু এই ‘দ্বিতীয় সংসদ’-এর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত তার ধারাবাহিকতা নয়, বরং ধারাবাহিকতাহীনতা।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং জিএস হন মাহবুবুর জামান। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে হাতে গোনা কয়েকবার। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের পর প্রায় ২৮ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন হয়নি। ২০১৯ সালে আবার নির্বাচন হলেও প্রশ্ন থেকেই যায়–যে প্রতিষ্ঠানকে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম জায়গা বলা হয়, তার নির্বাচন এত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকল কেন?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই ডাকসুকে শুধু একটি ছাত্র সংসদ হিসেবে দেখলে চলবে না।

ডাকসু আসলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা, বিরোধিতা, সহাবস্থান ও গণতন্ত্রের যে সংকট রয়েছে, ডাকসুর ইতিহাসেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ‘ফিমেল জোন’: ডাকসুর ভণ্ডামি নাকি প্রয়োজন?TSC,_DU

পাকিস্তান আমলে ডাকসু নির্বাচন তুলনামূলকভাবে নিয়মিত হলেও স্বাধীনতার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এর একটি কারণ ছিল ছাত্র রাজনীতির ক্রমবর্ধমান দলীয়করণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গাটি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনের অধীনে চলে যেতে থাকে। ফলে ডাকসু নির্বাচন আর শুধু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় থাকেনি; এটি হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ।

১৯৭৯ সালের নির্বাচনের কথাই ধরা যাক। সে সময় শিক্ষার্থী সমাজ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে বিভক্ত ছিল। একদিকে ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, অন্যদিকে সংগ্রামী ছাত্র ঐক্য। একই সময়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্রলীগ (জাসদ) অধিকাংশ পদে জয়ী হয়।

ডাকসুর ইতিহাসে একটি বিষয় প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়–জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির বিরোধী ছাত্রসংগঠন অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। এর ফলে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর জন্য ডাকসু নির্বাচন সবসময়ই একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে ক্যাম্পাসে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে–এই আশঙ্কা ক্ষমতাসীনদের মধ্যে কাজ করেছে।

১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালের প্রেক্ষাপট ছিল আরও জটিল। সে সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। শিবির ছাড়া প্রায় সব ছাত্রসংগঠন মিলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করেছিল। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের এই ঐক্য একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার কৌশল হিসেবেও ডাকসু নির্বাচনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়। কিন্তু সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।

স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশে নির্বাচনী গণতন্ত্র ফিরে আসে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক সময়েই ডাকসুর নির্বাচন প্রায় তিন দশক বন্ধ থাকে। কেন?

এর একটি বড় কারণ, ১৯৯০-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ডাকসু নির্বাচনের বাইরে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। নির্বাচনের প্রয়োজন ছাড়াই ছাত্রসংগঠন, হল প্রশাসন ও ক্যাম্পাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হলে একটি স্বাধীন ছাত্র সংসদ ক্ষমতাসীনদের কাছে বরং ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নির্বাচন মানে অনিশ্চয়তা। নির্বাচনে প্রতিপক্ষ জিততে পারে। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বাইরে শিক্ষার্থীদের বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠ তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচন সহাবস্থানের একটি পরিবেশ তৈরি করতে বাধ্য করে।

আর ঠিক এই জায়গাটিতেই ছাত্রসংসদগুলো ১৯৯০-পরবর্তী রাজনীতিতে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, অস্ত্রের ব্যবহার এবং পেশিশক্তির প্রভাব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। নব্বইয়ের দশকের ছাত্র রাজনীতির পুরোটাই রক্তে ভেজা। ১৯৯০ সাল ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪ জন খুন হন। ক্ষমতাসীন দলগুলো এসব সংঘাতের আশঙ্কাকে ডাকসু নির্বাচন না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

ডাকসু কেন পারছে না?ducsu

কিন্তু এখানেই একটি প্রশ্ন রয়েছে। সংঘাতের আশঙ্কা কি নির্বাচনের কারণে, নাকি নির্বাচন না থাকার ফলে সংঘাত আরও বেড়েছে? যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ থাকে না, সেখানে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা অনেক সময় অন্য পথে চলে যায়। ভোটের পরিবর্তে প্রভাব, যুক্তির পরিবর্তে শক্তি, রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সাংগঠনিক আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে নির্বাচন বন্ধ রেখে সহিংসতা কমানোর যুক্তি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফলও তৈরি করতে পারে।

ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে আরও একটি বাস্তব কারণ ছিল বয়সের রাজনীতি। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের অনেক নেতা বয়সের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারালে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ কমে যেত। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, এ কে আজাদ চৌধুরী উপাচার্য থাকাকালে, ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতাদের অনাগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। বয়সের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না–এমন বাস্তবতাও তখন সামনে আসে। অর্থাৎ ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকার কারণ কেবল প্রশাসনিক ছিল না। এর সঙ্গে ক্ষমতার হিসাবও যুক্ত ছিল।

২০১৯ সালে প্রায় ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক প্রশ্ন ছিল। দীর্ঘদিনের নির্বাচনী শূন্যতার পর হঠাৎ নির্বাচন কেন? অনেকে মনে করেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেও ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের রাজনৈতিক প্রয়োজন দেখা দেয়। ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের আলোচনার মোড়কে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়।

এখানে মূল সমস্যা হলো, যখন ডাকসু নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখা হয় না, বরং রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার হিসাব করে আয়োজন করা হয়, তখন এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায় না। যে নির্বাচনের আয়োজন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে হবে, তা ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনকে তাই শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশের সামনে এখন একটি বড় প্রশ্ন–দেশ কি সত্যিই নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকে এগোচ্ছে, নাকি শুধু ক্ষমতার মুখ বদলাচ্ছে?

ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের জন্য একটি পরীক্ষাক্ষেত্র হতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায়ই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্রে যদি ভিন্নমতকে জায়গা দেওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়েও তার প্রতিফলন দেখা যায়। রাষ্ট্রে যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সংকুচিত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা দেখা যায়।

তাই ২০২৫ সালের নির্বাচন শুধু নতুন ভিপি-জিএস নির্বাচনের বিষয় ছিল না। প্রশ্ন হলো–এই নির্বাচন কি একটি নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে? নাকি বর্তমান নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি কেবল আরেকটি প্রতীকী ঘটনাই হয়ে থাকবে?

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যত কঠিন, তার চেয়েও কঠিন সেটিকে ক্ষমতার স্বার্থের বাইরে রেখে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা।

এই কারণেই ডাকসুর সংকটকে শুধু ছাত্র রাজনীতির সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সংকট। এখন শুধু অপেক্ষা এটা দেখার যে, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট কীভাবে তৈরি হয়–গণতন্ত্রের অনুশীলনের জায়গা থেকে, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পুরাতন কৌশল হিসেবে? বর্তমান সরকার বা বিএনপির জন্য তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিক চর্চা নিশ্চিত করাই একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

লেখক: শিক্ষক ও লেখক

বিষয়: সংসদঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ডাকসুরাজনীতিজুলাই–আগস্ট গণহত্যাছাত্র সংসদ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন