Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

সৈয়দপুরের গোলাহাট-গণহত্যা বিভীষিকা

হিলাল ফয়েজী

হিলাল ফয়েজী

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১২: ২৩
সৈয়দপুরের গোলাহাট-গণহত্যা বিভীষিকা

সৈয়দপুর একটি সমৃদ্ধ প্রান্তর অনেককাল ধরে। না, মহকুমা কিংবা জেলার তকমা পড়ার সৌভাগ্য হয়নি সৈয়দপুরের। ব্রিটিশ শাসকেরা পুরো ভারতবর্ষকে রেল সংযোগ জালে বেঁধে নিয়েছিল ওদের সুক্ষ্ম শোষণ বুদ্ধিতে। সেই জালের সুবাদে সৈয়দপুরে রেলস্টেশন ছাড়াও সেখানে গড়ে উঠেছিল ১৮৭০ সনে এক বৃহৎ পরিসরের রেল ওয়ার্কশপ। এটিকে কেন্দ্র করে সেই থেকে এক মধ্যবিত্ত-শ্রমিক বসতিতে গমগম-ঝলমল সৈয়দপুর।

Advertisement

সৈয়দপুর প্রান্তরের অর্থনীতিতে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বিশেষ ভূমিকা কযেকশত বছর আগে থেকেই। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বিহার থেকে উদ্বাস্তু মুসলমান সম্প্রদায় বিশেষত রেলওয়ে ওয়ার্কশপকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে বিশাল বসতি গড়ে। পাকিস্তানি শাসকেরা সেই ১৯৪৭ থেকেই উদ্বাস্তু বিহারি মুসলমানদের বসতি দেশের নানাপ্রান্তে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলে ভূমিসন্তান বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। বিহারি উদ্বাস্তু সম্প্রদায় পাকিস্তানি শাসকদের ফাঁদে পা দেয় এবং ভূমিসন্তান বাঙালি হিন্দু-মুসলমানদের সঙ্গে বৈরিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

​এই পটভূমিটুকুর উল্লেখ প্রয়োজন ছিল আজ ১৩ জুন, ২০২৬ এর এই কালেও। সৈয়দপুরে বিহারি উদ্বাস্তু মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ১৯৭১ সালেও। এখনো। ভূমিসন্তান বাঙালিদের সঙ্গে পরিকল্পিত বৈরিতা সৃষ্টির ফাঁদে পড়েছিল অপরিণামদর্শী বিহারি উদ্বাস্তু সম্প্রদায়। সুতরাং সৈয়দপুর শহরে বলদর্পী দাপট ছিল বিহারি উদ্বাস্তুদের।

একাত্তরে যখন গণরায় -বিধ্বংসী পাকিস্তানি শাসকদের হিংস্র অভিযান শুরু হলো মার্চে, সৈয়দপুর সেনানিবাসের মদদে বিহারি উদ্বাস্তুরাও অপরিণামদর্শী হিংস্রতার প্রকাশে গোটা সৈয়দপুর শহরে বাঙালি গণহত্যা শুরু করে দিল। ঘরে ঘরে বাঙালিদের নিধন -উৎসবের গণহত্যা যেন। সৈয়দপুরের একালের একজন সাংবাদিক বললেন, সৈয়দপুরের নাম 'শহীদ পুর’ হওয়া যৌক্তিক হবে। একাত্তরে ঘরে ঘরে ছিল ভূমিসন্তান বাঙালির লাশ ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঢাকায় ২৫ মার্চ '৭১ অপারেশন সার্চলাইটের দু'দিন আগেই সৈয়দপুরে হত্যা এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পরই সৈয়দপুরের ​নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. জিকরুল হকের নেতৃত্বে সৈয়দপুর থানা সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হলে বিহারিদের বড় অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং দাঙ্গা বাধানোর অজুহাত খুঁজতে থাকে। ২১ মার্চ আব্দুর রউফ (সংসদ সদস্য) স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে জিপে সৈয়দপুর আগমন করলে অবাঙালি তরুণেরা সেই পতাকা ছিঁড়ে ফেলে। তারা আব্দুল রউফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ফলত উত্তেজনা ছড়াতে থাকে ব‍্যাপকভাবে।

সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট হয়ে ২৩ মার্চ সৈয়দপুরের সর্বত্র প্রজাতন্ত্র দিবসে পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে দেয় বিহারিরা। সশস্ত্র মিছিল, হিংসাত্মক স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। বাঙালিরাও বসে থাকেনি, প্রবল চেতনা ও উদ্দীপনাবাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে।

সৈয়দপুর শহর ঘিরে থাকা বাঙালিরা জড়ো হয় হাজারে হাজারে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মদদে চলতে থাকে বাঙালি নিধন। রেলওয়ে ওয়ার্কশপের শ্রমিকসহ অগণিত বাঙালি শহীদ হয়। ২৪ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কুখ্যাত মেজর কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে বুলেটের আঘাতে বিপুল বাঙালি নিহত হয়। ২৫ মার্চ সকাল থেকেই বিহারিরা সমগ্র সৈয়দপুরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগিয়ে দেয়। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট হয় তাদের প্রতিরক্ষাবলয়।

২৫ মার্চ রাতেই গরীবের চিকিৎসক, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. জিকরুল হককে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে যায়। আজও তার সন্ধান মেলেনি। তারপর শুরু হলো সৈয়দপুরে বিভীষিকার রাজত্ব। শত বছর ধরে সৈয়দপুরে বাণিজ‍্যবসতি গড়া মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের ওপর, বাঙালিদের ওপর চলল নির্মম অত্যাচার। তখন সৈয়দপুর বিমানবন্দর নির্মাণের শেষ পর্ব। সেই বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণের কাজে শত শত মাড়োয়ারি আর বাঙালিদের দিয়ে চলল গনগনে সূর্যের নিচে নির্মাণ কাজ।রেলওয়ে ওয়ার্কশপে লোহা গলানোর চুল্লিতে অজস্র বাঙালি নিশ্চিহ্ন হয় ।

এদিকে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়কে তাকবিন্দু করল পাকিস্তানি সেনা ও বিহারিরা। বিশেষত মাড়োয়ারি পুঁজি লুন্ঠনই ছিল বিহারি গুন্ডাদের লক্ষ্যবস্তু। দেড় শতাধিক মাড়োয়ারিদের সেনানিবাসে ধরে নেওয়া হলো,ওরা আর ফিরে আসেনি। সৈয়দপুর থেকে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে ওরা পাতল এক বীভৎস ফাঁদ। কুটিল প্রতারণা। জানি না হিটলারের নাৎসী বাহিনী এমন প্রতারণা কৌশল ব্যবহার করত কি না!

১০ জুন, ১৯৭১। সৈয়দপুর শহর ঘুরে রিকশায় মাইকযোগে প্রচার করা হতে থাকল, ১৩ জুন একটি ট্রেন যাবে সৈয়দপুর সীমান্তের চিলাহাটি। সকল মাড়োয়ারীদের ওই ট্রেনে করে ভারতে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

রীতিমত হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতোই। মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মনে আশা ছিল, ফের সংশয়ও ছিল। ১৩ জুন সকাল ১০টায় চার বগির ট্রেনে ৪৩১ জন মাড়োয়ারি উঠলেন। ট্রেনটি ২ কিলোমিটার এসে থামল গোলাহাট রেলওয়ে ব্রিজে। সবাই চমকে গেল। দেশি অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে একদল সশস্ত্র বিহারি, সঙ্গে সশস্ত্র সেনাবাহিনী। দেশি অস্ত্র দিয়ে মস্তক আলাদা করা, কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা— সৃষ্ট হলো এক নারকীয় নৃশংস দৃশ্যপট। আর্তনাদ শত শত অসহায় যাত্রীর। অনেকে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে অনুরোধ করল, তোমরা বুলেটে-গুলিতে হত্যা করো, তবু ওই তলোয়ার-চাপাতিতে নয়। সেনারা উত্তর দিল, গাদ্দারদের জন্য মূল্যবান পাকিস্তানি বুলেট নয়। তোমাদের দেশীয় অস্ত্রেই ছিন্ন ভিন্ন করা হবে। প্রায় সব যাত্রী নিহত হলো। কিছু তরুণ গাড়ী থেকে লাফিয়ে দৌড়ে বাঁচল বুলেটবৃষ্টির মধ্যেও। তাদের ক'জন এখনো সেই বিভীষিকার দুঃস্বপ্নের মাঝেও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছে।

২০২২ ও ২০২৩ সালে তাদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে অকুস্থলে। তারা কিছুই চায় না। চায় শুধু শহীদ-স্বীকৃতি। ৫৫ বছরেও বাংলাদেশে শহীদ স্বীকৃতি এখনো মেলেনি গোলাহাট গণহত্যার বিধ্বস্ত মানুষগুলোর।নিহতদের আত্মা এতটুকু স্বীকৃতি কী চাইতে পারে না!

বিষয়: পাকিস্তানসৈয়দপুরবাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধরেল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন