Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> প্রবাস

নহাটা গ্রামের আগুন আর লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল: এক হৃদয়বিদারক তুলনা

রহমান মৃধা

রহমান মৃধা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ২০: ০২
নহাটা গ্রামের আগুন আর লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল: এক হৃদয়বিদারক তুলনা

মানুষের জীবনে কিছু স্মৃতি এমনভাবে হৃদয়ে গেঁথে থাকে, যা সময়ের স্রোতে কখনো মলিন হয় না। ১৯৭১ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলোর স্মৃতি আজও বাংলাদেশের মানুষের মনে জ্বলন্ত এক ক্ষতের মতো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতা, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা গ্রামের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি আর লুটপাটের বিভীষিকা—এসব যেন এক অম্লান অধ্যায়।

Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের তাণ্ডব দেখার পর সেই স্মৃতিগুলো যেন আবারও ফিরে এল। লস অ্যাঞ্জেলেসে আমার ছোট বোন জলি এবং তাঁর পরিবার এই ভয়াবহ দাবানলের শিকার। তাদের জন্য গভীর দুশ্চিন্তা নিয়ে আমি যখন সেই আগুনের লেলিহান শিখা আর মানুষের অসহায় চেহারা দেখি, তখন ১৯৭১ সালের সেই দিনগুলোর চিত্র যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আমি তখন একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা। নহাটা গ্রামে আমাদের বাড়ি ছিল। সেখানেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তাণ্ডব দেখে আমি বড়দের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো পার করেছি। গ্রামের বাড়িঘর পুড়ে ছাই, মানুষের দিশেহারা ছুটে চলা, আর চারপাশে ধ্বংসের চিহ্ন—এসব দৃশ্য আজও মনের গহীনে জ্বলজ্বল করে।

১৯৭১: নহাটা গ্রাম পুড়ে ছাই

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নহাটা গ্রামে ছিল আমার বাপ-চাচাদের বড় বড় গুদামঘর। যা শুধু সম্পত্তি নয়, সবার জীবনের আশা-ভরসা ছিল। পাকিস্তানি হানাদারেরা সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সেই আগুন শুধু ঘর নয়, মাসের পর মাস আমাদের স্বপ্ন, আমাদের শিকড় পুড়িয়ে দিয়েছিল। তাণ্ডবের ফাঁকে দুষ্কৃতকারীরা সব লুটে নিয়ে যায়। তখন আমি নিজেই ছিলাম এক শিশু মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের মাঠে নয়, বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামে। পরিবারের বড়রা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আর আমি মাকে আর ছোট ভাইবোনদের নিয়ে সেই যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে টিকে থাকার চেষ্টা করেছিলাম।

নহাটা গ্রাম ছিল একসময় সচ্ছলতার প্রতীক। ছোট্ট এই গ্রামে ছিল বাপ-চাচাদের বড় বড় গুদামঘর। এই গুদামগুলোতে জমা থাকত বছরের ফসল, ব্যবসার মালামাল। পাকিস্তানি সেনারা একদিন আচমকা হামলা চালিয়ে পুরো গ্রামটিকে জ্বালিয়ে দেয়। ঘরবাড়ি, ফসলের গুদাম, বাজারের প্রতিটি দোকান—সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনের শিখায় শুধু জ্বলে ওঠেনি গাছপালা বা স্থাপত্য, বরং পুড়ে গিয়েছিল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা। মাসের পর মাস ধরে পুড়ছিল সেই গ্রাম। ধোঁয়া আর ছাইয়ের মাঝে বেঁচে থাকা মানুষগুলো যেন প্রাণহীন হয়ে পড়েছিল। সেই ফাঁকে কিছু দুষ্কৃতকারী এই ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষ থেকে লুটপাট করত। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের চোখে তখন শুধুই জল, আর মনে কেবল একটাই প্রশ্ন—কেন এই নিষ্ঠুরতা?

২০২৫: লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল

আজ ৫৪ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল দেখে সেই স্মৃতি যেন তাজা হয়ে ফিরে এল। আগুনের লেলিহান শিখায় যেন তখনকার সেই ভস্মীভূত নহাটা গ্রামকে দেখতে পাই। আজ লস অ্যাঞ্জেলেসেও মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছে, কেউ পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে, আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে সব হারিয়েছে। তবে এক বিষাদময় মিল এখানেও দেখছি—অমানবিক মানুষের আচরণ। তখন যেমন লুটপাটকারীরা যুদ্ধের সুযোগ নিয়েছিল, আজ ক্যালিফোর্নিয়ার এই সংকটেও কিছু মানুষ দুর্যোগে সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছে। এখানে অবশ্য কোনো যুদ্ধ নেই, কোনো সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত হামলা নেই। তবে প্রকৃতির এই অপ্রতিরোধ্য শক্তি মানুষের গৃহস্থালি, স্বপ্ন, আর আশাকে তেমনই পুড়িয়ে দিচ্ছে।

আগুনের শিখায় এখানকার বনভূমি জ্বলছে, ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হচ্ছে, আর আকাশে ভাসছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, রাস্তা আর আশ্রয়হীন মানুষের অসহায়তা আমাকে ১৯৭১-এর স্মৃতির গভীরে টেনে নিয়ে গেল। সেদিন যেমন নহাটা গ্রামে মানুষ এক পা সামনে বাড়াতে ভয় পেত, আজকের লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষ তেমনই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত।

তুলনা: একই আগুন, ভিন্ন প্রেক্ষাপট

তবু একটা পার্থক্য আছে। ১৯৭১ সালের সেই আগুন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগুন। আমাদের হৃদয়ে ছিল স্বাধীনতার পবিত্র মন্ত্র। কিন্তু এখানে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল প্রকৃতির এক নির্মম প্রতিশোধ। তবে তাণ্ডব আর লুটপাট দুই ক্ষেত্রেই যেন মানুষকে কেবল অসহায়ই করে তোলে।

নহাটা গ্রামের আগুন ছিল মানবসৃষ্ট, পাকিস্তানি সেনাদের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল অনেকাংশে প্রাকৃতিক, যদিও মানুষের উদাসীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের হাত ধরে এটি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তবে ধ্বংসের ধরণে রয়েছে এক আশ্চর্য মিল। দুই ক্ষেত্রেই মানুষ হারিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ ও স্বপ্ন। ১৯৭১ সালে আমরা দেখেছিলাম, আগুনের ফাঁকে দুষ্কৃতকারীরা লুটপাট চালিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলেও কিছু মানুষ অন্যের দুরবস্থার সুযোগ নিতে পিছপা হয়নি।

আবেগের দিক থেকে অভিন্ন

১৯৭১ সালে আমরা ভেঙেছি, কিন্তু হেরে যাইনি। সেই সময়ও আমাদের হৃদয়ে আশা ছিল, আর আজও আমি আশাবাদী। যেমন জলি এবং তাঁর পরিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তেমনই আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের সন্তানদের এই ইতিহাস জানাতে হবে, কারণ এগুলো শুধু স্মৃতি নয়, এগুলো শিক্ষা।

এ দুই ঘটনাকে যখন মনে করি, তখন একটাই প্রশ্ন মনে জাগে—কেন মানুষ বারবার ধ্বংসের মুখোমুখি হয়? নহাটার মানুষ সেই আগুনের পরেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করেছে, ক্ষত সারিয়ে তুলেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষও একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। তবে এইসব ধ্বংস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি এবং মানবতার প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা।

শিক্ষা ও আশা

আজ এই দাবানল আমার কাছে শুধু একটি ঘটনা নয়; এটি স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষকে, তার শক্তি এবং তার দুর্বলতাকে। তখন যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, তেমনই আজকের এই আধুনিক বিশ্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

নহাটা গ্রাম কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল—দুই ক্ষেত্রেই ধ্বংসের পেছনে রয়েছে মানুষ এবং প্রকৃতির সম্পর্কের একটি গভীর সংকট। এখন সময় এসেছে, এই সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়ার। ১৯৭১ সালে আমরা শিখেছিলাম ঐক্য এবং প্রতিরোধের মর্ম। লস অ্যাঞ্জেলেস তথা ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষকেও শিখতে হবে, কীভাবে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়।

তবে সব ধ্বংসের শেষে একটি আশার আলো থাকে। যেমন নহাটা গ্রাম পুড়ে গিয়েও নতুন করে বাঁচতে শিখেছে, তেমনি লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল পেরিয়েও মানুষ ঘুরে দাঁড়াবে।

হৃদয়ের গভীর থেকে একটি বার্তা

‘আমরা মানুষ, আমাদের মধ্যে মানবিকতা জাগ্রত থাকুক, যেন দুর্যোগের মুখেও আমরা আশার আলো জ্বালাতে পারি। আগুন কখনো স্বপ্নকে ভস্ম করতে পারে না।’

এইসব স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধ্বংস এবং পুনর্গঠন মানুষের জীবনের চিরন্তন চক্র। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, আমরা যেন ভবিষ্যৎকে আরও মানবিক এবং সংবেদনশীল করে তুলতে পারি।

—রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক

(সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন)

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: ক্যালিফোর্নিয়ালস অ্যাঞ্জেলেসবাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব

    অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব

    অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

  • খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?

    খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?

    খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

  • মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ

    মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক

    আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক

    আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।