
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
নভোনীল রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

দীর্ঘ ১৪ বছর ফ্লাইট পরিচালনার পর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে কার্যক্রম বন্ধ করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া এক্স। গতকাল রোববার থেকে সিডনি–কুয়ালালামপুর রুটে সংস্থাটির নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কম খরচে যাতায়াতের একটি জনপ্রিয় বিকল্পও বন্ধ হয়ে গেল।
২০১২ সালে সিডনিতে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে এয়ার এশিয়া এক্স। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনির বিমান যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সংস্থাটি। বিশেষ করে তুলনামূলক কম ভাড়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও পর্যটকদের কাছে এয়ার এশিয়া একটি পরিচিত নাম হয়ে ওঠে।
গত ২০ আগস্ট এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এয়ার এশিয়া গ্রুপ জানায়, ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়, নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী চাহিদা কমে যাওয়া এবং উড়োজাহাজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে সিডনি–কুয়ালালামপুর রুটটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরোনো ও তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারী উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব রুটে যাত্রীচাহিদা বেশি এবং বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা লাভজনক, সেসব রুটে উড়োজাহাজ ও অন্য সম্পদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এয়ার এশিয়া এক্সের মহাব্যবস্থাপক বেনিয়ামিন ইসমাইল সিদ্ধান্তটিকে কঠিন হিসেবে উল্লেখ করে জানান, সংস্থাটির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিডনি। মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ স্থাপনে এই রুটের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী ভ্রমণের একটি পথ বন্ধ
এয়ার এশিয়ার সিডনি রুট বন্ধ হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এয়ার এশিয়া তুলনামূলক সাশ্রয়ী একটি বিকল্প হিসেবে পরিচিত ছিল।
বিশেষ করে বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর হয়ে সিডনিতে যাতায়াতের সুযোগ পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বিমান সংস্থার তুলনায় কম ভাড়ায় টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকায় সীমিত বাজেটের যাত্রীদের কাছে এই রুটটি আকর্ষণীয় ছিল।
বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের জন্যও এই বিমান যোগাযোগ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় আসার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচের টিকিট অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক ছিল।
সিডনি–কুয়ালালামপুর রুট বন্ধ হওয়ায় এখন বাংলাদেশি যাত্রীদের বিকল্প বিমান সংস্থা বা অন্য শহর হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করতে হবে। এতে সাশ্রয়ী ভ্রমণের একটি বিকল্প কমলেও সামগ্রিক বিমানভাড়া কতটা প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে অন্য বিমান সংস্থার ভাড়া ও আসনপ্রাপ্যতার ওপর।
তবে এয়ার এশিয়ার ঢাকা–কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না এয়ার এশিয়া
সিডনি থেকে ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ করলেও অস্ট্রেলিয়ার বাজার পুরোপুরি ছাড়ছে না এয়ার এশিয়া গ্রুপ। বরং মেলবোর্ন ও পার্থের মতো শহরে বিমান যোগাযোগ জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
ঘোষণা অনুযায়ী, মেলবোর্ন–কুয়ালালামপুর রুটে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে পার্থ–কুয়ালালামপুর রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ১৪টিতে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ডিসেম্বর থেকে পার্থ–বালি রুটে সপ্তাহে ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সিডনি রুটে আগে থেকে টিকিট বুকিং করা ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য অর্থ ফেরত, ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ক্রেডিট অথবা ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি।
ভবিষ্যতে সিডনিতে আবারও ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি সংস্থাটি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং উড়োজাহাজ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্ভব হলে এই রুটে ফিরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
আপাতত ১৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের পর সিডনির আকাশে থেমে গেল এয়ার এশিয়া এক্সের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার অধ্যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও কম খরচে অস্ট্রেলিয়ায় যাতায়াতের একটি পরিচিত পথ বন্ধ হয়ে গেল।
সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর
মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’
‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।