সাতক্ষীরায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। সেইসাথে সংস্থাটি প্রশাসনের দায়িত্বে গাফিলতির তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।
আজ বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, “সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নামের এক যুবককে দফায় দফায় মারধর এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস।”
এইচআরএসএস মনে করে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলেও তাকে গণপিটুনি দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন করা কিংবা হত্যা করার কোনো অধিকার ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। অপরাধের অভিযোগের বিচার করার দায়িত্ব আদালত ও আইনানুগ কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়াও প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপ্তিতে আরও বলা হয়, “এ ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দফায় হামলার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। এরপর কীভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তিকে পুনরায় মারধর করতে পারলেন, তাঁকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং হামলাকারীদের প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি, নিষ্ক্রিয়তা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তদন্তের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরএসএস তিন দফা দাবি উল্লেখ করে-
# ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
# হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়া, তার ওপর পুনরায় হামলা এবং পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, নিষ্ক্রিয়তা বা দায়িত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রমাণসাপেক্ষে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
# নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে হবে।
এ ঘটনায় গৃহীত তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে অবহিত করতে হবে, যাতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি না হয় এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় থাকে।