ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আজ সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেছে বিরোধী দলগুলোর কয়েক শ নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এ ঘটনা ভারতের রাজধানীতে কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগ মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা করে দিচ্ছে। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমেছে বিরোধী দলগুলো এবং ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা।
সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে। তাদের মধ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতারাও ছিলেন। যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা প্রতিবাদ মিছিল বের করতে চাইলে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী তাদের বাধা দেয়। এ সময় দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশ কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশন বলেছে, ভুল করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে একটি আবেদন জমা দিতে বিরোধী দলগুলো সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। এর আগে তারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে তিনি সেই অনুরোধ নাকচ করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়গুলো ইতিমধ্যে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। বিচারাধীন মামলা নিয়ে আলোচনা করা বিচারিক নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী হবে। এ ক্ষেত্রে বিরোধীদের আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সোমবার বিরোধী দলের সদস্য ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মীসহ কয়েক শ মানুষ আদালতের উদ্দেশে মিছিল করে। অন্যদিকে দলীয় নেতারা বাসে করে সেখানে যান।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সংবিধান হাতে নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ১২ অক্টোবর, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পিএইচডি গবেষক অনিরুদ্ধ সিয়াগ বলেন, “এই দেশের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছে... এই আঘাতের প্রতিবাদ জানাতেই আমি এখানে এসেছি।”
বিক্ষোভের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ ১০ ঘণ্টার জন্য ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখে। পাশাপাশি যান চলাচল সীমিত করা হয় ২০টিরও বেশি সড়কে।
দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামসহ শত শত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান।