ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আজ রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ শত শত মানুষকে আটক করেছে।
রোববার বিকেলে ভারতের কমিউনিস্ট দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অনেক তরুণ বিক্ষোভকারী শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছে, আটক ব্যক্তিদের গাড়ির ভেতরে পুলিশ মারধর করেছে।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দলটির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসকে একটি বাস থেকে নামিয়ে অটোরিকশায় তুলতে সহায়তা করতে দেখা যায়। এ সময় তাকে অসুস্থ বা বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল।
আটক ব্যক্তিদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মন্তব্য জানতে রয়টার্স দিল্লি পুলিশের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য তরুণদের এই আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে তার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বারবার নির্বাচনে জয় পেয়েছে এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে আসা উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলা করে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছে আন্দোলনকারীরা। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগে মোদি সুবিধা পাচ্ছেন বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
এদিকে, আদালত ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির আরও দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গতকাল শনিবার দিল্লিতে তাদের বিমান অবতরণের পর দীপকে ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্য নেতাদের আটক করা হয়েছিল। শনিবার মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল সংগঠনটির।
সিজেপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জনশান্তি বজায় রাখার’ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।
দীপকে মুক্তি পাওয়ার কিছুক্ষণ পর সংগঠনটি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছে, “তেলাপোকা কখনো মরে না।”