চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী নিউ ইয়ালু নদী সেতু বৃহস্পতিবার চালু হবে বলে আজ বুধবার জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটি চালু উপলক্ষে দুই দেশ যৌথভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে এ পরিকল্পনার খবর দেয়নি। সেতুটি হবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথের সংযোগ।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের আশায় চীন ২০১৪ সালেই সেতুটির নিজস্ব অংশের নির্মাণকাজ শেষ করেছিল। তবে উত্তর কোরিয়া সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক ও শুল্কসুবিধা নির্মাণ অসমাপ্ত রেখে দেয়। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক পরীক্ষা এবং এর জেরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নতুন সেতুটি চালু হওয়া বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে তাদের প্রথম সড়ক সেতু চালু করেছে। ২০২৩ সালে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত এগিয়েছে।
গত বছর উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি বেড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার আগের পর্যায়ের তুলনায় এই রপ্তানি এখনো অনেক কম।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে চীন ও রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিভিন্ন বিনিময় কার্যক্রম চালাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তবে নতুন সেতুটি চালুর তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ মহামারির পর বিচ্ছিন্ন দেশটি বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়াচ্ছে। একই সময়ে পিয়ংইয়ং তার দুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার—চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
গত মাসে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তুমেন নদীর ওপর একটি সড়ক সেতু চালু করেছে। মস্কোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এটি দুই দেশের মধ্যে আরেকটি পরিবহন সংযোগ তৈরি করেছে।
তিন কিলোমিটার (প্রায় দুই মাইল) দীর্ঘ, দুই পাশে পৃথক সড়কবিশিষ্ট নতুন সেতুটি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজুকে যুক্ত করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো পুরোনো, এক লেনের চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুর পরিবর্তে সড়কপথে বাণিজ্যের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া।
সিউলে অবস্থিত কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক চো হান-বম বলেন, উদ্বোধন আরও পিছিয়ে গেলে উভয় দেশের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত টানাপোড়েন তৈরি হতে পারত। যদিও চীনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়ার বিষয়ে পিয়ংইয়ং এখনো সতর্ক।
তিনি বলেন, “উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্কে সব সময়ই সতর্কতা ও সহযোগিতা—দুই-ই রয়েছে।”