ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সেদিকুল্লাহ আতালের এর আগে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মাত্র ৮৫ রানের। সেই ব্যাটাসম্যানই বাংলাদেশের জয়ের পথে চোখরাঙানি দিয়ে শেষ সেশন পর্যন্ত লড়াই করে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। তিনি ফিরে গেলেও আফগানিস্তানের বাকি ব্যাটসম্যানরা চোয়ালবদ্ধ নিবেদনে হতাশ করলেন বাংলাদেশকে। জেতা ম্যাচে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল বাংলাদেশকে।
আবু ধাবিতে একমাত্র টেস্টে ৪৭৯ রানের টার্গেটে ১৪২ ওভারে আফগানিস্তান ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করেছে।
আফগানিস্তান দিনের খেলা শুরু করেছিল আতাল ও হাশমতুল্লাহ শহিদির অবিচ্ছিন্ন জুটিতে। এই দুজন প্রথম সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের বলতে কোনো সুযোগই দেননি। বিশেষ করে আতাল যেভাবে দৃঢ়তা নিয়ে ব্যাট করছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ ড্র করার জন্য যেন পণ করেই নেমেছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছিল, আবু ধাবির এই উইকেটে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে ফাটল ধরবে এবং স্পিনাররা সুবিধা পাবেন। সেই আশায় তিন স্পিনার নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে বড় লিডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জয়ের পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম দিনেও উইকেটে কোনো রকম ফাটল দেখা যায়নি। ফলে তৃতীয় সেশনেও স্পিনাররা তেমন টার্ন পাননি। আর সেই কারণে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা টিকে গেছেন লম্বা সময়।
তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানরা প্রথম দুই সেশনে সেভাবে কার্যকর হতে পারেনননি। পেসার ইবাদত হোসেনই মাঝেমধ্যে আফগান ব্যাটসম্যানদের কিছুটা বিভ্রান্ত তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে উইকেট নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
লাঞ্চের কয়েক ওভার আগে আহত হয়ে শহিদি মাঠ ছাড়েন। এরপর বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন ইবাদত। তার লেগ সাইডে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ইকরাম আলিখিলি গ্ল্যান্স করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। আর সেই ক্যাচ ধরেই ইতিহাস গড়েন লিটন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি, ফিফটি ও ৯টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
দ্বিতীয় সেশনটা বাংলাদেশের জন্য ছিল আরও কঠিন। আতাল ও ইসমত আলমের প্রতিরোধে ক্রমেই বাড়ছিল আফগানিস্তানের ড্রয়ের আশা। বিশেষ করে আতালের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য ও টেকনিকের দুর্দান্ত ছাপ। বাংলাদেশ দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরিও।
অন্যদিকে, ইসমতও মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের ফ্রন্ট-ফুট ডেলিভারিতে নাজমুলকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এই উইকেট বাংলাদেশ দলে জয়ের বিশ্বাস ফিরিয়ে আসে।
তবে হাল ছাড়তে নারাজ ছিল আফগানরা। দলটির লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিয়ে ইনজুরিতে পড়া শহিদি আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন। আর ফিরেই মিরাজকে কয়েকটি বড় শট খেলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হয় তাঁর। মিরাজকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন ৩৬ রানে।
চা বিরতির আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে যেন প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ চালিয়ে যান আতাল। তার ব্যাটিংয়েই আফগানিস্তানের ড্রয়ের আশা অটুট ছিল।
শেষ পর্যন্ত বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই প্রতিরোধ ভাঙতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে ব্যাট-প্যাড হয়ে আতাল ক্যাচ দেন শর্ট লেগে থাকা তানজিদ হাসানের হাতে।। শেষ হয় আতালের ৫১৪ মিনিট ও ৩৩২ বলে খেলা ১১১ রানের ম্যারাথন ইনিংস।
তবে তাতেও কমেনি আফগানিস্তানের প্রতিরোধ। ইয়ামিন আহমেদজাই ও কাইস আহমেদ মিলে ৮৪ বলে যোগ করেন ৩৯ রান। তবে এর মাঝে বাংলাদেশ মিস করেছে ক্যাচ এবং নষ্ট করেছে দুটি রান-আউটের সুযোগ।
দিনের খেলা যখন একেবারে শেষ পর্যায়ে, তখন আঘান হানেন মিরাজ। শর্ট লেগে ক্যাচে ফেরান আহমেদজাইকে (১৯)। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। কাইস (৪৯) ও জিয়াউর রেহমান (০) মিলে দিনের বাকি সময়ে আর বিপদ ঘটতে দেননি।