হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোনের লোভে তারেক মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধু সাহেল মিয়ার বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তারেক নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। আটক সাহেল একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, সাহেলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার একটি ডোবা থেকে তারেক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক ও সাহেল একে অপরের বন্ধু। কিছুদিন আগে তারা লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যায়। গত ২১ অক্টোবর দুপুরে নিখোঁজ হন তারেক। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর তারেকের বাবা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে সাহেলের কথাবার্তায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাহেল বাড়িতে এলে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।
সাহেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ অক্টোবর রাতে আইফোনটি নেওয়ার জন্য ঘুমন্ত অবস্থায় তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাহেল। পরে ৫০ হাজার টাকা দামের ফোনটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে মরদেহ ফুলবাড়ির একটি ডোবায় লুকিয়ে রাখে।
সাহেলের বরাত দিয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারেককে হত্যার কথা সাহেল স্বীকার করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হোসেন আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।