টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং নেওয়ার পর শঙ্কা ছিল তাদের রান পাহাড়ে চেপে বসার। তবে দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চেপে ধরলেন হেড-স্মিথদের। হাসানের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পর প্রথম দিনে বাংলাদেশকে চালকের আসনে নিয়ে গেছেন ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা দিনটা তাই বাংলাদেশেরই হয়ে রইল।
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৯৬, পিছিয়ে ১০২ রানে।
অস্ট্রেলিয়া এই শতকে দেশের মাটিতে টেস্টে এর চেয়ে কম রানে অলআউট হয়েছে মাত্র পাঁচ বার। মাত্র তৃতীয় সাক্ষাতেই এই তালিকায় নিজেদের নাম তুলে নিতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
তবে দলটার নাম অস্ট্রেলিয়া আর প্রতিপক্ষ শিবিরে সময়ের সেরা কয়েকজন বোলার থাকায় চ্যালেঞ্জ এরপরও ছিল বেশ। প্রাথমিক পরীক্ষায় অবশ্য লেটার মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।
সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান রয়েসয়ে খেলেই পার করেন প্রথম কয়েকটি ওভার। তবে আরও একবার সেট হয়ে আউট হন অভিজ্ঞ সাদমান (২০), বোলার ছিলেন গতিময় পেসার মিচেল স্টার্ক।
তবে এরপর বিশুদ্ধ টেস্ট ব্যাটিং য়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেন তানজিদ ও মুমিনুল হক। দুজনের কেউই চেষ্টা করেন আগ্রাসী হতে বা উচ্চাভিলাষী শট খেলতে। বাজে বল পেলেই শুধু হাত খুলেছেন। পেস-স্পিন দিয়ে ফাঁদ পাতলেও তাতে পা দেননি কেউই।
তানজিদ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও খোলসবন্দী হয়ে অপরাজিত আছেন ৬৭ বলে ৩২ রানে। আর মুমিনুল মাত্র ৪৯ বলে ৬টি চারে করেছেন ৩৫ রান।
দিনের শুরুতে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজানো বাংলাদেশ চমক দেখায় ইবাদত হোসেনকে নিয়ে। তবে হাসান ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনিও উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত কয়েকটি স্পেল, যা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে নামিয়েছে ধস।
প্রথম সকালটা অবশ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ারই। দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড এবং জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ৪৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন। তবে পরের ৩১ রানের মধ্যে চার উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
হাসানের ছয় উইকেটের সঙ্গে তাসকিন ও ইবাদত হোসেনের জোড়া শিকার অস্ট্রেলিয়াকে বড় রান করতে দেয়নি। একমাত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ (৭১), যিনি ক্যাচ দিয়েছিলেন শূন্য রানে। তানজিদ সেই ক্যাচটা নিতে াচটা নিতে পারলে আরও অল্পেই আটকে রাখা যেত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।