Advertisement Banner

হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার
হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের প্যারেডের স্ক্যাচ। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

লেবাননের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক এবং নাটকীয় মোড় নিয়ে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। আজ সোমবার রাজধানী বৈরুতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর সশস্ত্র উপস্থিতি এখন থেকে ‘অবৈধ’ এবং গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে তাদের সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “লেবানন রাষ্ট্র তার ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা নিরাপত্তা কার্যক্রমের কঠোর বিরোধিতা করছে। যুদ্ধ কিংবা শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার কেবল রাষ্ট্রের। তাই হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল, যখন গত রোববার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়, যাতে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। লেবানন সরকার বলছে, এই হামলাগুলো রাষ্ট্রের নীতি এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী।

সরকার লেবাননের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননসহ সারা দেশে হিজবুল্লাহর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার এবং ইসরায়েলের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা ঠেকানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর উত্তর অংশে অস্ত্র সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিগত ৪০ বছর ধরে হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনীতি ও সামরিক শক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকেছে। বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে লেবাননের ভেতর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ, লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্রদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া সরকার একতরফাভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠছে।

এদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ফলে শক্তিশালী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে লেবাননের সেনাবাহিনীর সংঘাতের পথ তৈরি হতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

সম্পর্কিত