Advertisement Banner

বড় দেশ কীভাবে ছোট দেশগুলোকে খেয়ে ফেলে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বড় দেশ কীভাবে ছোট দেশগুলোকে খেয়ে ফেলে
প্রতীকী ছবি।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় কী ঘটেছিল, জানেন? তারা চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে ঋণ শোধ করতে না পেরে দেশটি তাদের হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। একেই বলে ড্যাট-ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি চক্করে পড়া।

ড্যাট-ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি কী জানেন তো? ধরুন একটি দেশ উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর। তারা বন্দর, রেললাইন, হাইওয়ে, ফ্লাইওভার, সেতু ইত্যাদি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে চাইছে। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলাচ্ছে না। মানে হাতে টাকা নেই। তখন সে কী করবে? হাত পাতবে উন্নত ও শক্তিশালী দেশের কাছে। ঋণ পাওয়া গেল, প্রকল্প শুরু হলো। তারপর দেখা গেল, শর্ত অনুযায়ী ঋণ গ্রহণকারী দেশ ঋণ শোধ করতে পারছে না। ঋণ হয়ে উঠল তার গলার কাঁটা। এই অবস্থাকেই বলে ড্যাট-ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি।

এটি এমন এক ধরনের ভূরাজনৈতিক কৌশল, যেখানে শক্তিশালী দেশ অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে দুর্বল দেশকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, বড় দেশ ছোট দেশকে সহযোগিতা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। ঋণের জালে ছোট দেশকে আটকানোই উদ্দেশ্য।

ঋণ-ফাঁদের অন্যতম উদাহরণ হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)। উন্নয়নের নামে চীন বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঋণ দেয়। ঋণ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, কেনিয়া, জাম্বিয়াসহ অনেক দেশ। এগুলোর অনেকেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি।

চীনের পাশাপাশি রাশিয়া, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোও বিভিন্ন সময়ে এই কৌশল ব্যবহার করে। বিশ্বের বহু দেশ এই জালে জড়িয়ে আছে। ঋণ শোধ করতে না পারার ক্ষতিপূরণ হিসেবে জলাঞ্জলি দিতে হয় নিজেদের আত্মমর্যাদা, সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব।

সম্পর্কিত