যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগস্টে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছরের আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য আরও বলছে, দুই মাসের মোট রপ্তানির বড় অংশই এসেছে আগস্টে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় সামান্য কমেছিল। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ। বিপরীতে আগস্টে রপ্তানি এক লাফে বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ফলে দুই মাসের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিও ১১ শতাংশের ওপরে উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭৭৪ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। পুরো বছরের ওই রপ্তানিকে মাসভিত্তিক গড় করলে দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মাসিক রপ্তানির গড় গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা ফিরছে। জুলাইয়ের প্রায় স্থবির প্রবৃদ্ধির পর আগস্টে ২৫ শতাংশের বেশি রপ্তানি বৃদ্ধি এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। তাই আগস্টের ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি শুধু মাসিক রপ্তানি বৃদ্ধিই নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।