Advertisement Banner

ডিসি-এসপিরা একটি দলের পক্ষে কাজ করছে, অভিযোগ জামায়াতের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ডিসি-এসপিরা একটি দলের পক্ষে কাজ করছে, অভিযোগ জামায়াতের
জামায়াত নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। ছবি: চরচা

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগের পরিবেশ অনুপস্থিত এবং মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরপেক্ষতার পরিবর্তে দলীয় অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তাদের দ্রুত বদলির দাবিও জানিয়েছে দলটি।

আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, “বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পরিবর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। আমরা এসব বিতর্কিত ডিসি ও এসপিদের বদলির ব্যাপারে কমিশনকে বলেছি। দেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।”

প্রার্থী যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈষম্যের চিত্র দেখা গেছে। বিএনপির ১২-১৩ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একই আইনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, “কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে অনেক বেশি প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে একেবারেই দেওয়া হচ্ছে না। মেজর পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে সরকারের আচরণে সমতা থাকা উচিত। ইসি নীতিগতভাবে আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।”

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল প্রচার চালাচ্ছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন কার্ড দেবে। এটি সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, আমরা এখন তাদের পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছি।”

ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তাহের জানান, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তিনি বলেন, আমীরে জামায়াত যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ভারতীয় দূতাবাস দেখা করতে চেয়েছিল। তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল এবং আমরা তাদের সেই অনুরোধ রেখেছি। এর বাইরে ভারতের সঙ্গে কোনো ফরমাল বৈঠক হয়নি।

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি, শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের যেকোনো রায় আমরা মেনে নেবো।”

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা জানিয়ে তাহের বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে ইসি আশ্বস্ত করেছে। তবে আবার যদি সাজানো নির্বাচন হয়, তবে দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। একটি দল এমন ভুলের কারণে এখন নির্বাসনে আছে। দেশের স্বার্থে সবাইকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক রয়েছে, যা কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত