ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বচিত হওয়ার প্রায় এক মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু বিশ্ব এখনও তাকে জনসমক্ষে দেখেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বেশ কিছু বিবৃতি দিয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তবে জনসাধারণের সামনে তার এই অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য এবং অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
ইরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনি ইরানেই আছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি ডিডোভ বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেয়ী দেশেই আছেন, তবে কিছু কারণে তিনি জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন।
মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আলী খামেনি যুদ্ধের শুরুতে ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, তাদের বিশ্বাস নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা নিজেও আহত এবং সম্ভবত তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে মোজতবা খামেনিকে চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান এবং গত বছর উভয় দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মস্কোর এই বক্তব্য তেহরানের সাথে তাদের নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোজতবা খামেনির ক্রমাগত অনুপস্থিতি অবশ্য ইসলামি শাসনের অনুসারীদের উদ্দীপনায় কোনো ভাটা ফেলতে পারেনি। গত এক মাসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শত্রুদের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।
তবুও যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে ইরানের নতুন নেতার অনুপস্থিতি একটি গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আসলে দেশটি এখন কে চালাচ্ছেন?
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা তার বাবার চার দশকের শাসনামলে মূলত নেপথ্যে থেকেই কাজ করেছেন; তিনি প্রভাব বিস্তার করলেও খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও তার জনসম্মক্ষে না আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার পরিবর্তনশীল রূপকেই ফুটিয়ে তোলে। যেখানে এখন ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।