সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছে। গত শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের রোববারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রিয়াদে নিয়োজিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন মো. শাহেদ আহম্মেদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে ছুটিতে দেশ থেকে ফিরে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফেরার পথে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
আহতদের চিকিৎসা চলছে
দূতাবাস জানিয়েছে, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
আহতদের মধ্যে তিনজন কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাফফাত রহমান অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।
এ ছাড়া, রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আব্দুল্লাহ এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেনসহ তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কিংডম হাসপাতালে একজন, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিনজন, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে পাঁচজন, এস্টার সনদ হাসপাতালে দুজন, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে পাঁচজন এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা
দুর্ঘটনার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য অপেক্ষমাণ প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়ে। তাদের সহায়তায় রিয়াদে নিয়োজিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এর অংশ হিসেবে ১০০ জন যাত্রীর জন্য রিয়াদের মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া ইহরামের পোশাক পরিহিত ৬৭ জন যাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবারের স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করা হয়েছে।