চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন।
সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর মাধ্যমে যোগদানের ১৭ দিন পর চুয়েটের উপার্চায হিসেবে নিজ কার্যালয়ে গেলেন শেখ শরীফুল আলম।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিরে কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চরচাকে বলেন, একটি মাইক্রোবাসে উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসেন। পরে তিনি ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনে যান। এসময় উপার্চায ফটকে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে নতুন উপার্চায তার র্কাযালয়ে নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। শিক্ষার্থীরা জানান, এসময় উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট ছাত্রদলের সাবেক জিএস রিয়াসাত হোসেন, বর্তমান সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন ছিলেন। এছাড়া তার রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমানও সঙ্গে ছিলেন।
সাবেক ছাত্রদলনেতা রিয়াসাত হোসেন চরচাকে বলেন, “নতুন ভিসি যোগদানের সময় আমরা উনার সাথে ছিলাম। উপার্চায ভবনের মূল ফটকের তালা খোলা ছিল। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা আরাফাত রহমানসহ কেয়েখজন শিক্ষকও ছিলেন।”
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপার্চায বদলের প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।
এর অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করে আসছে। আন্দোলনের কারণে গত ২১ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নতুন উপার্চায অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চরচাকে বলেন, “আমি ক্যাম্পাসে এসেছি। এসেই আন্দোলনরত শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। এখানকার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছি। অনেক শিক্ষক এসেছেন। তারা সহযোগিতা করবেন।”
“প্রায় ২১ দিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করে তাদের শিক্ষাজীবন রক্ষার কথা বলেছেন। আমিও এ সমস্যা থেকে উত্তরণে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করব। দ্রুতই আমরা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেব।”
পূজার ছুটির পরেই চুয়েটে সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন নতুন উপাচার্য।