আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও মজবুত করেছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ফাইফারের পর দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতে অবশ্য কিছুটা চাপেই পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিমের লড়াকু ফিফটিতে বড় লিডের পথে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানের। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ২৪০ রানে।
বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল দুর্দান্ত। রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলির আগের দিনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। আলিখিলিকে ৩২ রানে বোল্ড করে ফেরান তিনি। এরপর আফগানিস্তানকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই দেননি তিনি আর হাসান মিলে। রহমত শাহ সেঞ্চুরি করলেও আফগানিস্তানের ইনিংসে ধস নামান হাসান।
ইসমাত আলমকে ১ রানে বোল্ড করার পর টানা টানা দুই বলে কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন হাসান। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশের টেস্টে হ্যাটট্রিক ছিল কেবল দুই স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর।
এরপর পাঁচ উইকেটও পূর্ণ হয় হাসানের, যা তাকে জায়গা করে দিয়েছে বিরল এক ক্লাবে। কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই ডানহাতি পেসার।
হাসানের ৫ উইকেট ও ইবাদতে ৪ উইকেটে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার আশা জাগিয়ে আড়াইশো রানের আগেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।
১০৬ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংসে ৮৩ রান করা তানজিদ হাসান ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন। তবে অন্য প্রান্তে সাদমান ইসলাম সেভাবে তাল মেলাতে পারেননি। তিনি বিদায় নেন ১৩ রানে। অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ৭ রান করে বিদায় নেন। বাংলাদেশের চাপ বাড়িয়ে খানিক বাদে তানজিদও (৩১) যখন আউট হন, তখন দলীয় রান মাত্র ৫৩।
আর ঠিক সেখান থেকেই বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে আসেন নাজমুল ও মুশফিকুর। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৫৯ রানের জুটি।
অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যান পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনও আফগানিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন, আবার রয়েসয়েও খেলেছেন। ফিফটি পেরিয়ে দুজনই যখন আশির ঘরে, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় আফগানরা।
দিনের শেষ ঘন্টায় জিয়াউর রেহমানের বলে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে আলগা শটে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় মুশফিকুরের ৮১ রানের দারুণ ইনিংস। দুই ওভার বাদে নাজমুলকেও হারায় বাংলাদেশ। অসাধারণ এক ডেলিভারিতে কাইস তাকে বোল্ড করেন ৮২ রানে। দিনের শেষ ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন হাসানও (১)।