ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূতের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়েছে, এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি বলে ক্রেমলিনের এক সহযোগী জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার “সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে বেশ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন”। এসব ধারণা কী, তা উশাকভ জানাননি।
তিনি বলেন, পুতিন ওই দুজনকে জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি “সংঘাতের সব মূল কারণ” সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা পুতিনের
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আলোচনা ছিল ‘বিষয়বস্তুপূর্ণ’ এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
উইটকফ ও কুশনারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে তারা জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো মস্কো সফর করেন। আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই তারা মস্কো ত্যাগ করেন এবং আজ রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
উশাকভ বলেন, “আলোচনা কেবল ইউক্রেন সংকট সমাধান নিয়ে মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অর্থনৈতিক বিষয় এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে, এমন বড় রুশ-আমেরিকান প্রকল্প নিয়েও কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”
“সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আলোচনা সময়োপযোগী এবং উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে,” তিনি যোগ করেন।
রুশ প্রেসিডেন্টের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বৈঠকটিকে “গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রচেষ্টার সফর” বলে অভিহিত করেন। তিনি ও উশাকভ দুজনই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
আলোচনার শুরুতে টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন বলেন, “তিনি যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করছেন, তা বুঝতে পেরেও তিনি সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করার এবং রুশ-ইউক্রেনীয় সংঘাত সমাধানে নিজের অবদান রাখার প্রচেষ্টা থামাননি।”
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন পুতিন। এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সফরের কারণে পুতিন রুশ সামরিক বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।