Advertisement Banner

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও প্রবল দমকা হাওয়ার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও প্রবল দমকা হাওয়ার কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে আজ শনিবার থেকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এর এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির পর পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ অপারেশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে, যা সরাসরি আইজিপির তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। জনসাধারণের সহায়তায় আলাদা হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হয়েছে।

দেশজুড়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হয়েছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌকা, ডাইভিং সরঞ্জামসহ উদ্ধার উপকরণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাকে একীভূত করে যৌথ জরুরি কাঠামো চালু করা হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ফেলে যাওয়া মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় পুলিশের বিশেষ নজরদারি চলছে।

অন্যদিকে, ভয়াবহ আবহাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিক শ্রীলঙ্কায় আটকে পড়েছেন। তাদের সহায়তায় দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এমিগ্রেশন বিভাগ বিশেষ ভিসা সুবিধা চালু করেছে। ২৮ নভেম্বর বা তার পর যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের ভিসা নবায়নে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা বা ফি দিতে হবে না। পর্যটন, ব্যবসা ও আবাসিক ভিসাধারীদের জন্য সাত দিনের বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ভিসা নবায়নের সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

কলম্বো ও আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা ও উদ্ধার নির্দেশনা মানার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।

সম্পর্কিত