একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংকটে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো এবারও তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চক্রান্ত করছে বলেও মন্তব্য তার।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ডেমরার নবী টাওয়ারে বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক কাউন্সিলর বাদল সরদারের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “বিগত দিনের নির্বাচন বা চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা নাম উল্লেখ না করে শেষ মুহূর্তে এসে মনগড়া অনিয়মের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু জনগণ এখন সচেতন, অপপ্রচার চালিয়ে তারা সফল হতে পারবে না।”
সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রামে সালাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন আপসহীন ও আদর্শবান সিপাহসালার। শত শত ভুয়া মামলা, রিমান্ডের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কারাবাসের ফলে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। অথচ চিকিৎসাবঞ্চিত করে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু সালাউদ্দিন আহমেদ নন, বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বহু নেতাকর্মীকে এভাবেই পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের প্রধান সমন্বয়কারী নবীউল্লাহ নবী। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যরা।