সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেছে ঢাকা মেট্র্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির সদর দপ্তরের এ সভায় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) ইনিশিয়েটিভ কো-অর্ডিনেটর মো. ওয়াদুদ, ডিএমপির আট জোনের ডেপুটি কমিশনার, এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।
সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানগত তারতম্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি নাগরিকের মৃত্যুসনদে প্রকৃত কারণ লিপিবদ্ধকরণ, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে প্রকাশিত সংবাদপত্র বা অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দেন।
এছাড়া, সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে মানসম্মত হেলমেটের সঠিক ব্যবহার ও সুনির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পর্যাপ্ত সংখ্যক এআই ক্যামেরা স্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন আনিছুর রহমান। পাশাপাশি তিনি ডোপ টেস্টের মাধ্যমে চালকদের মাদক গ্রহণ পরীক্ষা চালানোর জন্য সহায়তা চান এবং চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডিএমপির কর্মকর্তাদের ট্রাফিক আইন প্রয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য অংশীজনদের সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।
সভায় রোড সেফটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট আচরণগত ঝুঁকিসমূহ এবং এগুলো থেকে উত্তরণের জন্য দেশের বিদ্যমান আইন এবং বিধিমালা বিষয়ক গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। সিআইপিআরবির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী সামগ্রিক রোড সেফটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনে সিটবেল্ট ও সুরক্ষিত শিশু আসন নিশ্চিত করা, চালকদের প্রতি বছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শব্দ দূষণ কমানো এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে আরও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সভাপতি দৃঢ়চিত্তে আশ্বাস প্রদান করেন সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সবর্দা প্রস্তুত এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে কোনো সহায়তা চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে সরেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ কারবে।”