কক্সবাজারে আগুনে পুড়ে যাওয়া ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ অগ্নিঝুঁকির বিষয়ে গত জুনেই সতর্ক করা হয়েছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনায়েদ। তিনি জানান, সতর্কতা ও নোটিশ দেওয়ার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না।
আজ শনিবার দুপুরে অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সুলতানুল আফরিন জুনায়েদ। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, গত জুনে রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে নোটিশও দেওয়া হয়। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
মহাপরিচালক জানান, তিনতলা রিসোর্টটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।
লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্কতার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান মহাপরিচালক।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর মাধ্যমে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।