Advertisement Banner

এখনো ইরানে আটক ১৬ ভারতীয় নাবিক, রয়েছেন বাংলাদেশিও

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এখনো ইরানে আটক ১৬ ভারতীয় নাবিক, রয়েছেন বাংলাদেশিও
ইরানে জব্দ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স

গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে আটক থাকা ১৬ জন ভারতীয় নাবিকের পরিবার তাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসি বলছে, গত ৮ ডিসেম্বর ইরানি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে তেলবাহী জাহাজ এমটি ভ্যালিয়ান্ট রোর জব্দ করে। ইরানের অভিযোগ, জাহাজটি ৬ হাজার মেট্রিক টন অবৈধ ডিজেল বহন করছিল। তবে জাহাজটির অপারেটর দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ট্যাঙ্কার্স এলএলসি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতীয় নাবিক ছাড়াও জাহাজটিতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার একজন করে নাগরিকও আছেন। আটক ভারতীয় নাবিকদের পরিবার দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে, ভারত সরকার যেন কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নাবিকদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

১৬ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ইরানের বন্দর আব্বাস কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ছয়জন এখনো জাহাজেই অবস্থান করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ১০ জনের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ করেছে। ইরানি নৌবাহিনী অনুমতি দিলে জাহাজে অবস্থানরত ছয়জন নাবিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।

নাবিকদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, জাহাজে থাকা নাবিকদের একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সবার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, শুধু পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একটি ফোন ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগগুলো নিয়ে বিবিসি দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে প্রশ্ন পাঠালেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। ইরানি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র ফোনালাপে জানান, ভারতীয় নাবিকদের গ্রেপ্তার বা আটক সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের হাইকমিশনেও তাদের নাগরিকদের অবস্থা জানতে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে।

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নাবিকদের মুক্তিপ্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, প্রথমে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে জন্ম নিলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। একই সময়ে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত