Advertisement Banner

চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির শীর্ষ নেতাদের এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে আদালতের এই রায় ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক যুদ্ধে এই শুল্কগুলোই ছিল তার প্রধান হাতিয়ার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ)’ ব্যবহার করে চীনা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

মূলত ফেন্টানিল পাচার রোধ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। আদালত এই যুক্তি নাকচ করে দেওয়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ভিত্তি কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

রায় আসার পরপরই ট্রাম্প একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি বিকল্প হিসেবে ১৫০ দিনের জন্য নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করবেন। এবার জানা গেল তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন।

২০১৭ সালের পর এটিই হবে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানো। ইতিপূর্বে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় দেশ নতুন করে শুল্ক না বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে চীনের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, “এই পরাজয় বেইজিংয়ের চোখে ট্রাম্পের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।”

আগামী সফর সম্পর্কে ট্রাম্প বেশ উচ্ছ্বসিত। ওয়াশিংটন সফররত বিদেশি নেতাদের তিনি বলেন, “এটি একটি বিশাল ঘটনা হতে যাচ্ছে। চীনের ইতিহাসে এমন প্রদর্শনী আপনারা আগে কখনো দেখেননি।”

তবে বেইজিং এখনো সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

সম্পর্কিত