এশিয়ান গেমসের অন্যতম আকর্ষণ হলো, এই মহাদেশের বাইরে খুব বেশি পরিচিত নয় এমন কিছু খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। এখানে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেমন সেপাক তাকরো, উশু কিংবা কুরাশ। তবে কৌতূহল জাগানো খেলাগুলোর মধ্যে সম্ভবত কাবাডিই সবচেয়ে এগিয়ে।
গেমসে অলিম্পিকের নিয়মিত খেলাগুলো থাকলেও একই মঞ্চে জায়গা করে নেয় এমন কিছু আঞ্চলিক খেলাও, যেগুলো চীন ও জাপানের মতো ক্রীড়া-পরাশক্তিদের আধিপত্যে থাকে না।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কাবাডির উৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশে বলে মনে করা হয়। খেলাটি এতটাই জনপ্রিয় যে, সেখানে পেশাদার কাবাডি লিগের খেলা হাজার হাজার দর্শক দেখে। এটি একটি দলীয় শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মরক্ষার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এই খেলা খেলা হতো।
কাবাডি খেলায় নেই কোনো বল, ব্যাট, গোল কিংবা র্যাকেট। এখানে ট্যাগ, ট্যাকল ও কুস্তির বিভিন্ন কৌশল দেখা যায়। ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে কাবাডি প্রদর্শনী খেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তবে বিশ্বজুড়ে খেলাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।
কাবাডির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের মাঠে খেলা ‘রেড রোভার’ কিংবা ইংল্যান্ডের ‘ব্রিটিশ বুলডগ’ নামের খেলাগুলোর কিছুটা মিল রয়েছে।
এশিয়ান গেমসে ব্যবহৃত নিয়মে সাতজন করে খেলোয়াড় নিয়ে দুটি দল ছোট একটি কোর্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। কোর্টটি আয়তাকার, তবে কাবাডির আরেক সংস্করণে বৃত্তাকার জায়গায় খেলা হয়।
আক্রমণকারী দলের একজন খেলোয়াড়কে বলা হয় ‘রেইডার’। তিনি মধ্যরেখা পেরিয়ে প্রতিপক্ষের অংশে যান এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে, ট্যাকলের শিকার না হয়ে আবার মধ্যরেখা পেরিয়ে নিজের অংশে ফিরে আসার চেষ্টা করেন।
খেলাটি ২০ মিনিট করে দুই অর্ধে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে পারলে কিংবা রেইডারকে থামাতে পারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়।
এদিকে কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলেও এবারের এশিয়ান গেমসে নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগেই শিরোপা জিতেছে ভারত। নারী ফাইনালে ভারত ৩৭-৩৪ পয়েন্টে ইরানকে হারায়। পুরুষ ফাইনালেও ভারত ইরানকে ৪০-৩৪ পয়েন্টে পরাজিত করে।
এবারের পুরুষ কাবাডিতে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপান। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপের বিরুদ্ধে জয় পেলেও জাপান ও ভারতের বিরুদ্ধে হেরে যায়। ফলে বাংলাদেশ পুরষ দল সেমিফাইনাল বা নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ‘গ্রুপ এ’-তে থাকা বাংলাদেশ নারী দল তাদের ৩টি ম্যাচের মধ্যে ১টি জয় এবং ২টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করে। নারী দলও সেমিফাইনাল বা নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।