ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট করছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন।
ধর্মঘটের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর ও মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ বাড়িতে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বজনরা। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপভ্যানে মরদেহ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেট স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়।”
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “হাসপাতালের বাইরে সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখলে সার্জেন্ট মামলা দেন। অথচ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছি। বর্তমানে ঢামেক থেকে আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মো. শাহীন বলেন, “আমার দাদি হালিমা বেগমকে (৭০) ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাইনি।”
ঢামেক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেককে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এমনকি পিকআপভ্যানেও রোগী ও মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। হাসপাতালের বাইরে থেকে কিছু অ্যাম্বুলেন্স এলেও রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা মিলছে না।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।