গত মাসের বিক্ষোভে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করতে চান বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, তাদের শাস্তি দেওয়া বা বারবার আদালতে হাজির হতে বাধ্য করলে পরিস্থিতির কোনো সমাধান হবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই মাসে মোদির তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ নিয়ে বিদ্যমান ক্ষোভও এতে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ চলাকালে কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন স্লোগান দেয়। এরপর কর্তৃপক্ষ শত শত বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, "এরা বিভ্রান্ত তরুণ। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরানো বা সমাজে হয়রানির শিকার করা—এসব কোনো কিছুই পরিস্থিতি বদলাবে না।"
তিনি আরও বলেন, "আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। আশা করি সমাজও আমার এই অবস্থানকে গ্রহণ করবে।"
বিক্ষোভ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া স্বঘোষিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সোমবার অভিযোগ করে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যে "শত শত" শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অবসান ঘটে। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
এদিকে এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোদি সরকার সরকারি পরীক্ষাসংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য আরও দীর্ঘ কারাদণ্ড এবং বেশি অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।