২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লায় চালানো হামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। একই সাথে গোষ্ঠীটি নতুন সেল গঠনের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্যাংশনস মনিটরিং টিম।
জাতিসংঘের এনালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকাভুক্ত নয় এমন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একিউআইএস একটি খণ্ডিত দল থেকে ধীরে ধীরে একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংস্থায় রূপ নিচ্ছে। বড় দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার পরিবর্তে গোষ্ঠীটি বিকেন্দ্রীভূত ছোট ছোট সেলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্র সংগ্রহ ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে সামগ্রিক সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা মূলত অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তা আরও তীব্র হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উত্তেজনা উচ্চমাত্রায় ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে শীর্ষ নেতৃত্ব হারালেও বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে উগ্রবাদী সংগঠনগুলো। সম্প্রতি আইএসআইএলের শীর্ষ নেতা আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাইনুকির মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গোষ্ঠীটির বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ কাঠামো বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়েছে।
তবে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে জামায়াত নুসরতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং এফএলএ যৌথভাবে মালি সরকারের ওপর চড়াও হয়ে রাজধানী বামাকো অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি জেএনআইএম এবং আইএসজিএস-এর মধ্যে রক্তাক্ত আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি)। এছাড়া সোমালিয়াভিত্তিক আল-শাবাব তাদের সামরিক কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং কঙ্গোতে উগ্রগোষ্ঠী এডিএফ নিজেদের তৎপরতার পরিধি আরও বাড়িয়েছে।