রাজধানীর হাজারীবাগের একটি বাসা থেকে রাফসাদ মোস্তফা রুহিন (২২) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে হাজারীবাগের ৪/এ নম্বর রোডের জাহানারা ম্যানশনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাফসাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া এলাকায়। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগের ওই ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার বড় ভাই মালয়েশিয়ায় প্রবাসী।
রাফসাদ মোস্তফা রুহিন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে রাফসাদ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।
মৃতের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ কামাল জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রাফসাদের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। তখন রাফসাদ জানিয়েছিল, জিম শেষ করে সে একটি সেলুনে চুল কাটতে এসেছে এবং সেখান থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে পরে সে আর বিমানবন্দরে যেতে পারেনি।
ইমতিয়াজ কামাল বলেন, রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো একসময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে রাফসাদ বাসার ডাইনিং রুমসংলগ্ন একটি ছোট কক্ষে চলে যায়। সকালে তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি থানায় জানান। পরে পুলিশ এসে দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাফসাদের। তবে কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। এ কারণে মনোমালিন্যের জের ধরেই রাফসাদ আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম মিয়া জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরের দিকে ৪/এ নম্বর রোডের জাহানারা ম্যানশন, ৯/৪ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় যায়। সেখানে রাফসাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের পরবর্তী তদন্তে জানা যাবে।