Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

কবি নজরুলের সিফিলিস বিতর্ক, আসলে কী?

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১৬
কবি নজরুলের সিফিলিস বিতর্ক, আসলে কী?
কাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: বাসস

কবি নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই কেউ কেউ বলা শুরু করেছিলেন, নজরুল সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সিফিলিস হলো একটি সংক্রামক যৌনবাহিত রোগ। ‘ট্রেপোনেমা প্যালিডাম’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। নজরুলের সিফিলিস ছিল–এই আলাপটি আরও জোরালো করে তোলেন কলকাতার লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. গিরীন্দ্রশেখর বসু ও ডা. সেনগুপ্ত। ১৯৪২ সালের অক্টোবরে অসুস্থ কবি নজরুলকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এই দুই চিকিৎসক কবির শরীরে নিউরো সিফিলিস ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। ফলে অনেকে ধরেই নেয়, কবির যদি সিফিলিস না থাকত, তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা দেওয়া হলো কেন?

Advertisement

একটু পেছনে ফিরে যাই, ১৯৩০ সালে কবি তার পুত্র বুলবুলকে হারান। এই ঘটনায় তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান। লন্ডনের সেন্ট্রাল মিডলসেক্স হাসপাতালের জেরিঅ্যাট্রিক্স বিভাগের দীর্ঘদিনের পরামর্শক ড. মুহাম্মদ নূরুল হকের মতে, এই ঘটনার পর থেকেই কবি হ্যালুসিনেট করা শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে কবি তার মৃত ছেলেকে জীবিত দেখেছেন বলে দাবি করেন। কয়েক বছর পর তিনি আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার কথাও জানান। এর মধ্যেই শুরু হয় আর্থিক অনটন। ১৯৩৯ সাল থেকে তার আর্থিক সংকট তীব্র হতে শুরু করে।

কবি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাকে তার আশপাশের লোকজন ঠকাচ্ছে। সবাইকেই তিনি সন্দেহের চোখে দেখতেন। ১৯৪২ সালের জুলাইয়ে তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন তখন থেকেই দেখা দিতে থাকে। অসংলগ্ন কথাবার্তা, খিটখিটে মেজাজ, কখনো কখনো মারমুখী আচরণও করতেন। ডা. মুহাম্মদ নূরুল হক তার ‘নজরুলের কী রোগ হয়েছিল?’ শিরোনামের প্রবন্ধে লিখেছেন, কবির এই অবস্থাকে ‘সাইকোসিস বলা যেতে পারে।

কবি নজরুল ১৯৪২ সালের জুলাইয়ে বন্ধু জুলফিকার হায়দারকে লেখা এক চিঠিতে জানান, তার ব্লাড প্রেশার লো, মাথায় যন্ত্রণা, হাতকাঁপা, জিভের আড়ষ্টতা দেখা দিয়েছে। তখনই তাকে ভর্তি করা হয়েছিল লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালে। সেখানে সিফিলিস রোগের চিকিৎসা হিসেবে কবিকে আরসেনিক দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তাতে কবির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় বলে দাবি ড. নূরুল হকের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৫২ সালে কবিকে নেওয়া হয় রাঁচির মানসিক হাসপাতালে। কোনো উন্নতি না হওয়ায় ১৯৫৩ সালের মে মাসে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার লন্ডন ক্লিনিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। ব্রিটিশ চিকিৎসকরা জানান, বিদ্রোহী কবি আলজেইমার ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাওয়ার রোগে আক্রান্ত। সেখান থেকে কবিকে নেওয়া হয় অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, কবির রোগের নাম ‘পিক্‌স ডিজিজ’। আরও জানিয়ে দেওয়া হয়, এই রোগ ভালো হওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ডা. দ্বিজন্দ্রকুমার রায় কবির দেখভাল করেছেন। তিনি বলেছিলেন, কবি যে রোগে আক্রান্ত, সেই রোগ একেবারে নতুন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এই রোগের কারণ বের করতে পারেনি। এখন ড. হকসহ অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নজরুল ‘ডিমেনশিয়া অব লিউয়ি বডিস’ বা ‘ডিএলবি’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। লিউয়ি বডিস হলো এক ধরনের অস্বাভাবিক প্রোটিন, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে জমে যায়। এর ফলে রোগীর ভয়, উদ্বেগ, বিষাদ, মূত্রত্যাগে সমস্যা, হাতকাঁপা, দিবাস্বপ্ন, স্মরণশক্তি লোপ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, তখন অনেকে মনে করতেন, কবি সিফিলিসে ভুগছিলেন। লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালের ডা. গিরীন্দ্রশেখর বসু ও ডা. সেনগুপ্তের মতো চিকিৎসকের মতো বিধান রায়ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কবির সিফিলিস হয়েছে। কবি নজরুলের জীবনীকার গোলাম মুরশিদের ধারণা, এই চিকিৎসক সে অনুযায়ী চিকিৎসাও করেছিলেন। ফল হলো উল্টো, কবি বিড়বিড় করতেন, তাও বন্ধ হয়ে যায়।

নজরুলের সিফিলিস হয়েছে এই ধারণা কোথা থেকে এল? কবির দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসক ডা. ডি কে রায় জানিয়েছিলেন, অনেকে ধরেই নিয়েছিল, যেহেতু কবি সৈনিকের পেশায় ছিলেন সেহেতু সিফিলিস রোগ থেকেই তার ‘জেনারেল প্যারালাইসিস অব ইনসেন্স’ হয়ে থাকতে পারে।

ডা. রায় ১৯৯৯ সালে স্টেটসম্যান পত্রিকায় লিখেছেন, “কারও মনে করা ঠিক হবে না যে, তিনি (কবি) কখনো সিফিলিসে ভুগেছেন। তাঁর প্রি-সেনাইল ডিমেনশিয়া হয়েছিল।” এই আহ্বানে খুব একটা কাজ হয়েছিল বলে মনে হয় না। সিফিলিস হয়েছে–কথাটি প্রচার হয়ে যাওয়ার পর অনেক ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী কবির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন, যে কবি তার সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন এই বাঙালির জন্য। অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গোলাম মুরশিদের মতে, কবির অসুস্থতার কারণ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তার সমাধান আর হয়নি। হবেও না। এখনো এ নিয়ে কথা হয়। আমার ব্যক্তিগত মত, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, কবির সিফিলিস ছিল, তাতে সমস্যাটা কোথায়? মানুষের কি এই রোগ হতে পারে না? এই রোগ হলে কি কারও মূল্য কমে যায়? এই রোগ হলে লোকটি খারাপ, এই রোগ না হলে লোকটি পূজনীয়–এ কেমন দৃষ্টিভঙ্গি?

সহায়ক গ্রন্থ:

১. কবি নজরুলের অসুস্থতা: তর্ক-বিতর্ক ও দলিলপত্র, ইসরাইল খান সম্পাদিত

২. বিদ্রোহী রণক্লান্ত: নজরুল-জীবনী, গোলাম মুরশিদ

৩. আবদুল মান্নান সৈয়দ রচনাবলি (৫ম খণ্ড)রে’

বিষয়: কাজী নজরুল ইসলামকবিরোগ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।