Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতার গল্প

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৫৯
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতার গল্প
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান গতিপথকে বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন এশিয়া টাইমসের লেখক হান ফেইজি। মঙ্গলবার প্রকাশিত তার নিবন্ধের মূল বক্তব্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ ক্রমশ বেশি পরিশ্রম করেও কম পণ্য ও নিম্নমানের সেবা পাচ্ছে, অর্থাৎ বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রার মানের ওপর অবনমনের চাপ তৈরি হচ্ছে। বিপরীতে চীনে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার অভিযোগ থাকলেও পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি, উৎপাদনক্ষমতা, পছন্দের সুযোগ ও জীবনযাত্রার মান দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ফেইজি এই দুই বিপরীত প্রবণতাকে যথাক্রমে ‘এনশিটিফিকেশন’ এবং ‘চীনা ইনভোলিউশন’ নামে ব্যাখ্যা করেছেন। তার যুক্তিতে, এই পার্থক্য শুধু দুই দেশের ভোক্তা-অভিজ্ঞতার পার্থক্য নয়; বরং উৎপাদন, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, শিল্পনীতি এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথের প্রতিফলন।

Advertisement

‘এনশিটিফিকেশন’ শব্দটি মূলত সাংবাদিক কোরি ডক্টরোর তৈরি। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি প্রবণতা বোঝান, যেখানে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা সেবা প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার মান কমিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বাড়ানোর দিকে এগোয়। ফেইজি এই ধারণাটিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সীমা ছাড়িয়ে পুরো মার্কিন অর্থনীতির পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। তার বক্তব্য হলো, একজন মানুষ যদি আগের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করে বেশি অর্থ উপার্জন করেন, কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারেন এবং নিম্নমানের সেবা পান, তাহলে নামমাত্র আয় বাড়লেও প্রকৃত অর্থে তিনি দরিদ্র হচ্ছেন। অর্থাৎ জীবনযাত্রার মান পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু আয় বা জিডিপি নয়, মানুষ সেই আয় দিয়ে কী ধরনের পণ্য ও সেবা পাচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে চীনের গোপন ভূমিকা কী? iran misile

এই ধারণার উদাহরণ হিসেবে ফেইজি যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল সেবা থেকে শুরু করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও গাড়ির বাজারের কথা বলেছেন। তার মতে, একসময়ের ব্যবহারবান্ধব ফেসবুক এখন ক্লিকবেইট ভিডিও, সন্দেহজনক সাপ্লিমেন্টের বিজ্ঞাপন এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ভরে গেছে। ইউটিউব-এর বিজ্ঞাপনও এতটাই আক্রমণাত্মক হয়েছে যে বিনামূল্যের সংস্করণ ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। লেখকের দৃষ্টিতে, এ ধরনের কৌশলের উদ্দেশ্য হতে পারে ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করে অর্থ প্রদানের অর্থাৎ প্রিমিয়াম সংস্করণের দিকে ঠেলে দেওয়া। অর্থাৎ একচেটিয়া বাজারক্ষমতা থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার বদলে তাকে অর্থ প্রদানের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ পায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ফেইজি একই প্রবণতা বাস্তব অর্থনীতিতেও দেখতে পাচ্ছেন। তিনি মার্কিন রেস্তোরাঁ ও খাদ্যবাজারের উদাহরণ দিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতায় এক সময়ের জনপ্রিয় চীনা বুফে রেস্তোরাঁগুলোর মানের ব্যাপক অবনতি তাকে বিস্মিত করেছে। তার বর্ণনায়, ১৮ ডলার ব্যয় করেও গ্রাহক পাচ্ছেন স্বাদহীন পুনরায় গরম করা চিংড়ি, নরম হয়ে যাওয়া ব্রোকলি এবং শক্ত ডিম রোল। এক সময়ের সাশ্রয়ী খাবারের বাজার খাদ্য ও শ্রমের মূল্যবৃদ্ধির চাপে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগের সেই মূল্য-মানের সমন্বয় আর থাকছে না।

এই আলোচনায় ফেইজি এশিয়া টাইমসের সাবেক কলামিস্ট এবং বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র উপদেষ্টা ডেভিড গোল্ডম্যানের একটি মন্তব্যও তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গোল্ডম্যান প্রশ্ন তুলেছিলেন, চীনের জিডিপির হিসাব নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানও কি বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সঠিকভাবে তুলে ধরছে? তার উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, চীনে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০১০ সালের ৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টা থেকে ৮ মেগাওয়াট-ঘণ্টায় উঠেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে তা প্রায় ১৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টায় অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন ২০০৮ সালের তুলনায় কমেছে, অথচ স্বাস্থ্যসেবায় প্রকৃত ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গোল্ডম্যানের প্রশ্ন ছিল, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় দ্বিগুণ হলেই কি মানুষ বাস্তবে দ্বিগুণ পরিমাণ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে?

এখান থেকেই ফেইজি তার মূল বৈপরীত্যটি দাঁড় করিয়েছেন। যদি ‘এনশিটিফিকেশন’ অর্থ হয় একই বা বেশি অর্থ দিয়ে নিম্নমানের পণ্য ও সেবা পাওয়া, তাহলে এর বিপরীত কী? তার উত্তর, চীনের ‘ইনভোলিউশন’। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চীনা ‘ইনভোলিউশন’ শব্দটি চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ব্যবহার করছেন। সাধারণভাবে ইনভোলিউশন বলতে এমন প্রতিযোগিতাকে বোঝায় যেখানে মানুষ অতিরিক্ত শ্রম দেয়, কিন্তু সেই অতিরিক্ত শ্রমের তুলনায় উৎপাদনশীলতা বা প্রত্যাশিত সুবিধা যথেষ্ট বাড়ে না। নৃতাত্ত্বিক ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ ১৯৬৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ধানচাষের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি ব্যবহার করেছিলেন। চীনে শব্দটি বর্তমানে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়—ব্যবসায় অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, চাকরির চাপ, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক চাপ বোঝাতে।

কিন্তু ফেইজির যুক্তি হলো, চীনের ক্ষেত্রে ‘ইনভোলিউশন’ শব্দটির অভিযোগের আড়ালে একটি ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে। তার মতে, চীনের জনগণ নিজেদের ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিযোগ করলেও একই সময়ে তাদের ভোক্তা-অভিজ্ঞতা দ্রুত উন্নত হচ্ছে। পণ্যের মান বাড়ছে, বৈশিষ্ট্য বাড়ছে, পছন্দের সুযোগ বাড়ছে, সেবার মান উন্নত হচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মানও বাড়ছে। ফলে চীনের ‘ইনভোলিউশন’কে শুধু অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ফেইজি এটিকে এক ধরনের ‘নিরাপদ বিনয়ী আত্মপ্রশংসা’ হিসেবে দেখেছেন—মানুষ অভিযোগ করছে যে প্রতিযোগিতা খুব কঠিন, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতাই পণ্যের মান ও উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে।

মার্কিন-চীন নৈকট্যে ভারতের বিপদ কতটাUS President Donald Trump with Chinese President Xi Jinping, White House, September 25, 2026–Reuters

ফেইজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, পশ্চিমা বিশ্ব চীনের অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে ভুলভাবে বুঝে আসছে। তার মতে, চীনা অর্থনীতি স্থবির নয়, চীনের ভোগও কম নয় এবং চীন শুধু বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত রপ্তানি করছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়। বরং তার দাবি, চীনা পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগীদের তুলনায় দ্রুত উন্নত হওয়ায় চীন বেশি রপ্তানি করছে। এই উৎপাদনক্ষমতার পেছনে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ কর্মসূচি এবং অর্থনীতিতে দ্রুত এআই গ্রহণ। অর্থাৎ তার ব্যাখ্যায় চীনের রপ্তানি শক্তি দুর্বল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির লক্ষণ নয়; বরং শক্তিশালী উৎপাদনক্ষমতার ফল।

ফেইজি তার আগের একটি বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির গুণগত উন্নতির হার বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হতে পারে। তার মতে, এই প্রবণতা শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য পর্যন্ত চীনা বাজারে একই ধরনের উন্নতি ঘটছে। শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রেও চীনা নির্মাতারা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

চীনের পরিবেশগত উন্নতিকেও ফেইজি এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, দ্রুত শিল্পায়নের কয়েক দশকের পর চীন এখন পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিল্পাঞ্চল স্থানান্তর, বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা উন্নত করা, ইয়াংজি নদীর তীরে নতুন উন্নয়ন নিষিদ্ধ করা এবং বাণিজ্যিক মাছ ধরা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপের ফলে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাছের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে নগর পার্কের সংখ্যাও কোভিড-পরবর্তী সময়ে ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে তার নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জীবনযাত্রার পরিবেশগত মানও উন্নত করার চেষ্টা চলছে—এমন একটি চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন।

এই উৎপাদনশীলতার কেন্দ্রে রয়েছে মানবসম্পদ, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফেইজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীন প্রতি বছর প্রায় ১৮ লাখ প্রকৌশলী ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় সাত গুণ। ২০২৫ সালে চীন ৩ লাখ ৫৪ হাজার শিল্প রোবট স্থাপন করেছে, যা ওই বছরের বৈশ্বিক স্থাপনার ৫৯ শতাংশ। চীনে শিল্প রোবটের মোট স্থাপিত সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ, যা বিশ্বের মোট স্থাপনার প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করছে এবং পণ্য উন্নয়নের সময়ও কমিয়ে আনছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের উদাহরণটি এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ফেইজির মতে, চীনা ইভি কোম্পানিগুলোর নতুন পণ্য উন্নয়নের সময়সীমা ১৮ থেকে ২৪ মাস, যেখানে জার্মান, মার্কিন ও জাপানি প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে তা ৪০ থেকে ৬০ মাস। এআই-নির্ভর কারখানা এবং ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীনা প্রকৌশলীরা বাস্তব প্রোটোটাইপ তৈরির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছেন। এর ফলে প্রযুক্তি গ্রহণের গতি বাড়ছে এবং বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীকে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে।

চীনের বৈশ্বিক মডেল আসলেই বদল আনতে পারবে?china_ai-generated-photo

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও বড় সমস্যা রয়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ফলে ২০২০ সালের পর চীনে প্রায় এক কোটি উৎপাদনশিল্পের চাকরি হারিয়ে গেছে, যদিও একই সময়ে উৎপাদন ৩৬ শতাংশ বেড়েছে বলে ফেইজি উল্লেখ করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অটোমেশন একদিকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জুনে ১ কোটি ২৭ লাখ চীনা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছে। তাদের অনেকেই উচ্চপদস্থ পেশাজীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও স্নাতক হওয়ার পর দেখেছে, তাদের জন্য পর্যাপ্ত ঐতিহ্যবাহী চাকরি নেই। নিবন্ধে তরুণ বেকারত্বের হার ১৮.৯ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ফেইজি চীনের তরুণ বেকারত্বকে একটি বৃহত্তর ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সমস্যার পূর্বাভাস হিসেবেও দেখেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি উৎপাদনশীলতাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সব দেশকেই এমন শ্রমবাজারের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তখন অর্থনীতি পর্যাপ্ত নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারলে তা প্রাচুর্যের দিকে যেতে পারে। আর সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে তা অর্থনৈতিক সংকটের দিকে যেতে পারে।

কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে? china free speech

চীনা তরুণদের আচরণ সম্পর্কেও ফেইজি একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, তরুণদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে গিগ কাজ, আংশিক কর্মসংস্থান বা বেকার অবস্থায় থেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে কম ঋণের চাপ তাদের এই সময় নেওয়ার সুযোগ দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। কেউ প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরি না পেয়ে অন্য কাজ বেছে নিচ্ছে, কেউ উদ্যোক্তা বা সৃজনশীল ক্ষেত্রে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী চীনা জনগোষ্ঠীর বেকারত্বের হার ৭.৫ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ তরুণদের প্রাথমিক বেকারত্ব উচ্চ হলেও পরবর্তী বয়সে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়।

নিবন্ধের শেষাংশে ফেইজি পশ্চিমা অর্থনীতির সঙ্গে চীনের এই পার্থক্যকে আরও তীব্র ভাষায় তুলনা করেছেন। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্ব চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়ে এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক পথ নিয়েছে, যেখানে উৎপাদনের পরিবর্তে ভোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, জনশক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পরিবর্তে পুনঃশিল্পায়নের কথা বলা হচ্ছে এবং বাস্তব উৎপাদনক্ষমতা না বাড়িয়েই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তার দৃষ্টিতে, এ ধরনের অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত ‘এনশিটিফিকেশন’-এর দিকে নিয়ে যায়, অর্থাৎ বেশি ব্যয়, বেশি শ্রম এবং বেশি প্রযুক্তিগত প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মানুষ বাস্তবে নিম্নমানের বা কম পরিমাণের পণ্য ও সেবা পায়।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রচীনঅর্থনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।