Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

মামদানি: মানুষ রায় দিয়েছে, এবার কাজ শুরুর সময়

মাসুদ মোভাহেদ

মাসুদ মোভাহেদ

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৪৬
মামদানি: মানুষ রায় দিয়েছে, এবার কাজ শুরুর সময়

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব বিজয় এনে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী অঙ্গরাজ্যের তরুণ আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন–তাকে হারিয়ে মামদানি ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া তিনি শহরের প্রথম মুসলিম অভিবাসী মেয়র ও শত বছরে সবচেয়ে কমবয়সী নেতা। তার এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে–বিশেষ করে সেই প্রগতিশীল তরুণদের মাঝে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনীতিতে হতাশ ছিল।

Advertisement

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন প্রচারে মামদানি হাত বাড়িয়েছেন আফ্রিকান-আমেরিকান, মুসলিম, ইহুদি, হিন্দু, পূর্ব আফ্রিকান ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে। বিশেষ করে সেই তরুণদের দিকে যারা ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্বল পারফরম্যান্সে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। মামদানি তাদের আবার সক্রিয় করেছেন, ফিরিয়ে এনেছেন ভোটের রাজনীতিতে।

জোহরান মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকার: ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ, সবার জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা, দ্রুত ও বিনামূল্যের বাস ব্যবস্থা চালু করা এবং ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সার্বজনীন ও বিনামূল্যের সেবা-যত্ন–শহরজুড়ে বৈপ্লবিক এক ভাষ্য তৈরি করেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর সমাজতান্ত্রিক সংগঠক ইউজিন ডেবসের পর এমন সমতা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভাষ্য আমেরিকান মূলধারায় খুব কমই দেখা গেছে।

জোহরান মামদানি: আমেরিকায় এক নতুন মানবিক রাজনীতির প্রতীকzohran-3

টেলিভিশনে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ বলতে কী বোঝায়–জিজ্ঞাসা করা হলে মামদানি উত্তরে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কথা উদ্ধৃত করেন। সেটা অনেককেই চমকে দিয়েছে। “কিং বলেছিলেন–এটি গণতন্ত্র বলুন বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র, ঈশ্বরের সন্তানেরা যাতে সঠিকভাবে সম্পদের ভাগ পায়, সেই ব্যবস্থাই মূল লক্ষ্য।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? বহু মানুষের কাছে ‘সমাজতন্ত্র’ মানেই সোভিয়েত যুগের সেই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অদক্ষ, কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি–যেখানে সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা ও মানবিক বিকাশের জায়গা ছিল খুবই কম। অথচ সোভিয়েত ব্যবস্থা সমাজতন্ত্র ছিল না–বরং সত্যিকার অর্থেই ছিল ‘রাষ্ট্রবাদ’–যেখানে অর্থনীতির সব নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক ক্ষমতাবান আমলাদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

কার্ল মার্কসের ব্যাখ্যায় সমাজতন্ত্র দাঁড়ায় দুটি মূলনীতির ওপর:

১) শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা–যাতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে মতামত দিতে পারে।

২) কাজের সময় কমিয়ে মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ বাড়ানো–যা পুঁজিবাদ আজও দিতে ব্যর্থ।

কিন্তু ১৯ ও ২০ শতকের সমাজতান্ত্রিক পরীক্ষাগুলো এসব মানবিক নীতির ধারেকাছেও ছিল না। সোভিয়েত রাষ্ট্রতন্ত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল দুর্নীতিগ্রস্ত, জনবিচ্ছিন্ন ও দমনের যন্ত্রে। ফলে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি পরিণত হয়েছে ব্যর্থতার প্রতীকে, যদিও তার মূল দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দিকে।

ট্রাম্প-মামদানির বৈঠকে সৌহার্দ্যের বার্তাzohran mamdani reuters

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র আসলে এই ধারণাকেই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা–অর্থনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা। এখানে বাজারব্যবস্থা থাকে, তবে উৎপাদন ও সম্পদের মালিকানা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়। এর লক্ষ্য বাজার বিলোপ নয়, বরং বাজারকে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনা–যাতে অর্থনীতির ফলাফল প্রতিফলিত হয় সমাজের যৌথ মূল্যবোধে, কেবল ধনী গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।

পুঁজিবাদ প্রবৃদ্ধি আনলেও তা মানুষের বিশাল এক অংশকে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও অসমতার মধ্যে ফেলে রাখে। ‘পছন্দের স্বাধীনতা’, যা পুঁজিবাদ গর্বের সঙ্গে প্রচার করে–বাস্তবে এক সীমিত স্বাধীনতা মাত্র। প্রকৃত স্বাধীনতা–যা মানুষের জীবনচয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। তা পুঁজিবাদের বৈষম্যপূর্ণ সমাজ কাঠামোতে সবার নাগালে থাকে না।

প্রথম দিনের লাঞ্চে কী বার্তা দিলেন জোহরানmamdani-food

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র তাই সমতার পাশাপাশি প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। মামদানির নীতি–ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, বিনামূল্যের বাস, সার্বজনীন শিশুযত্ন–এসব মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করার উপায়। যখন আয়ের বেশির ভাগটাই ভাড়ায় চলে যায়, তখন স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। বাসস্থানের নিশ্চয়তা মানুষকে মর্যাদা দেয়, ভবিষ্যৎ ভাবতে সাহায্য করে। বিনামূল্যের বাসব্যবস্থা শহরজুড়ে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ায়। আর শিশুযত্নকে সামাজিক দায়িত্বে পরিণত করলে নারীরা বিশেষভাবে মুক্তি পায়–কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও জনজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

এই নীতিগুলো স্বাধীনতাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে, যাতে ধনীদের সীমাহীন সম্পদ সঞ্চয়ের স্বাধীনতা নয়, বরং থাকে সবার নিরাপত্তা, সুযোগ ও মর্যাদার স্বাধীনতা।

আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে নর্ডিক দেশগুলো যেমন: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড–গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শের সবচেয়ে কাছে রয়েছে। সেখানে শ্রমজীবী মানুষের শক্ত ভূমিকাই সামাজিক নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানেও সম্পদের বৈষম্য রয়ে গেছে, যা দেখায় যে প্রকৃত রূপান্তরের পথ এখনো অসম্পূর্ণ।

জোহরান মামদানির বিজয় তাই নতুন দিগন্তের আশা দেখায়। কঠোর ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের মাঝেও তার জয় প্রমাণ করে–মানুষ এখনো ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার রাজনীতিকে মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন কাজ–প্রতিশ্রুতিকে নীতিতে রূপান্তর, আশাকে বাস্তব পরিবর্তনে পরিণত করা।

মানুষ রায় দিয়েছে। এবার কাজ শুরু করার সময়।

**আল জাজিরায় প্রকাশিত লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।**

মাসুদ মোভাহেদ: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারা।

বিষয়: আমেরিকাসমাজতান্ত্রিকগণতন্ত্রনিউইয়র্কমেয়র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ