Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ফ্রিদার পোশাকের রাজনীতিটা কী?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২৭
ফ্রিদার পোশাকের রাজনীতিটা কী?

ফ্যাশন, রাজনীতি কিংবা আর্ট-কালচারের একটু-আধটু খোঁজখবর যারা রাখেন তারা ফ্রিদা কাহলো নামটির সঙ্গে তো পরিচিত। তাই না? আজ এই কালজয়ী শিল্পীর জন্মদিন। মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া ফ্রিদা ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। ছবি আঁকতেন। আর সবচেয়ে বেশি আঁকতেন নিজের ছবি। প্রায় ৫৫টি আত্মপ্রতিকৃতি বা সেলফ পোর্ট্রেট এঁকেছিলেন তিনি। আর সেইসব চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। যা একসময় পরিণত হয়েছিল দুনিয়া কাঁপানো এক ট্রেন্ডে।

Advertisement

ফ্রিদার মৃত্যুর পর ৭২ বছর পেরোলেও আজ ওল্ড-স্কুল বা মডার্ন রানওয়েতে ফ্রিদা কাহলো ইন্সপায়ার্ড ফ্যাশন শো দেখা যায়।

এখন, প্রশ্ন উঠতেই পারে; দুনিয়ায় কত কিছুই তো ট্রেন্ড হয়ে ওঠে, আবার হারিয়েও যায়। তাহলে ফ্রিদার ফ্যাশন সেন্সে এমন কী জাদু ছিল যে তা রীতিমতো এক আইকনিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো? এত বছর পরও কেন এত আলোচনা? উত্তর লুকিয়ে আছে ফ্রিদার আত্মপরিচয়ের গভীরে।

ফ্রিদা কাহলোর মার্ক্সবাদী রাজনীতি ও চিন্তাধারার অধ্যয়ন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মূল কারণ হলো, ফ্রিদার ব্যক্তিত্বকে একবিংশ শতাব্দীতে একটি সস্তা বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ফ্রিদার চেহারা আজ ক্যাথলিক ভাবধারার মোমবাতি থেকে শুরু করে জন্মদিনের কার্ড কিংবা মোজার মতো অজস্র পণ্যে অনায়াসে খুঁজে পাওয়া যায়। তার চেনা জোড়া ভ্রু আর ফুল জড়ানো বেণীর অবয়বকে সৃজনশীল ব্যক্তি থেকে শুরু করে বড় বড় বস্তুবাদী করপোরেশনগুলো পর্যন্ত সমানভাবে ব্যবহার করছে, যাতে শিল্পীর চেহারা ও নারীবাদী ভাবমূর্তিকে পুঁজি করে নিজেদের পণ্য বিক্রি করা যায়।

ফ্রিদাকে সাধারণত একজন নারীবাদী আইকন, বিদ্রোহী নারী এবং এক অনন্য শৈল্পিক প্রতিভার প্রতীক হিসেবেই পূজা করা হয়। যেহেতু এই ধরনের একটি দৃষ্টিভঙ্গিই সাধারণ মানুষের কাছে ফ্রিদার জীবন ও কর্মের মূল ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তাই অনেকে এটা জেনে অবাক হতে পারেন যে—তিনি আসলে একজন কমিউনিস্ট ছিলেন।

বিপ্লবের আইকন থেকে ফ্যাশন আইকন বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডChe Guevara

শুধু তাই নয়, এই রাজনৈতিক মতবাদকে তিনি অন্য যেকোনো দর্শনের চেয়েও অনেক বেশি প্রাধান্য দিতেন। এই ধরনের বাণিজ্যিক পণ্যগুলোর দিকে তাকালে আজ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, স্বয়ং শিল্পী বেঁচে থাকলে এই বিষয়ে ঠিক কী ভাবতেন?

ফ্রিদা কাহলোর ছবির প্রদর্শনী। ছবি: রয়টার্স
ফ্রিদা কাহলোর ছবির প্রদর্শনী। ছবি: রয়টার্স

ফ্রিদা নিজেকে একজন গর্বিত ‘মেস্তিজা’ বা মিশ্র জাতের নারী হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন। তার বাবা ছিলেন জার্মান-হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত, আর মা ছিলেন অর্ধেক স্প্যানিশ ও অর্ধেক মেক্সিকোর আদিবাসী তেহুয়ানা সম্প্রদায়ের। নিজের ভেতরের এই মিশ্র সত্ত্বাকে উদযাপন করতে ফ্রিদা খুব সচেতনভাবেই পশ্চিমা আধুনিক ফ্যাশনের সাথে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। যেন কাপড়ের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে তিনি তুলির আঁচড়ের মতো এঁকে চলেছিলেন অন্য এক আত্মপ্রতিকৃতি।

পোশাকের এই নিজস্ব ঘরানার মধ্য দিয়ে তিনি এমন এক জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যার প্রতিফলন পাওয়া যায় তার ক্যানভাসে। ফ্রিদার কাছে তার এই পোশাক নিছক সাধারণ সাজগোজ ছিল না, বরং তা ছিল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতীয়তাবাদ আর নারীবাদের এক জোরালো রাজনৈতিক ঘোষণা।

কাহলোর কাছে পোশাক ছিল স্রেফ আরেকটি মাধ্যম, যার সাহায্যে তিনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তিনি তার সমসাময়িক আধুনিক পোশাকের সাথে মায়ান সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী হুইপিল ব্লাউজ মিলিয়ে পরতেন। যে ব্লাউজের প্রতিটি নকশায় জড়িয়ে থাকত পরিধানকারীর জীবনের গল্প। একই সাথে নিজের মিশ্র ঐতিহ্যের মেলবন্ধন তুলে ধরতে তিনি ঔপনিবেশিক আমলের রুপার কানের দুলের সাথে মিলিয়ে গলায় জড়িয়ে নিতেন আদিবাসী সংস্কৃতির জেডাইট এবং অনিক্স পাথরের তৈরি প্রাচীন মালা।

শারীরিক অসুস্থতা ফ্রিদাকে যত বেশি দুর্বল করছিল, তার পোশাকের রঙ যেন ঠিক ততটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল! এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ১৯৫৩ সালে, যখন এক ভয়ংকর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়। লাগানো হয় কৃত্রিম পা। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী তো ফ্রিদা ছিলেন না। নিজের কৃত্রিম পা-টিকে তিনি সাজিয়ে নিয়েছিলেন একদম ফ্রিদাসুলভ চেনা জাঁকজমকপূর্ণ ঢঙে। পায়ে পরেছিলেন লাল রঙের চমৎকার এমব্রয়ডারি করা এক জোড়া বুট জুতো, আর তার ফিতেয় বেঁধে দিয়েছিলেন একটি ছোট্ট ঘণ্টা!

কাফকায়েস্ক আসলে কী?Franz Kafka

মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগের এই সৃজনশীল জেদ ফ্রিদাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। জীবন তার সামনে যত কঠিন পরিস্থিতিই এনে দাঁড়াক না কেন, তিনি কখনো আড়ালে বা পেছনের সারিতে হারিয়ে যেতে রাজি হননি। বরং পোশাককে বানিয়েছিলেন নিজের লড়াইয়ের এক অসাধারণ হাতিয়ার।

১৯৫৪ সালে ফ্রিদার মৃত্যুর পর, তার পোশাক ও জীবনের এই অন্তর্নিহিত দর্শনটি একরকম হারিয়েই গেছে। করপোরেট দুনিয়া এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে সবার কাছে সহজলভ্য ও বিপণনযোগ্য করে তোলার চেষ্টায় তার পোশাকের মূল পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শটিকেই যেন ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিয়েছে।

২০১৮ সালে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে ‘ফ্রিদা: মেকিং হার সেলফ আপ’ প্রদর্শনীতে ফ্রিদার আসল রূপটিই আবার চেনা ছন্দে ফিরে আসে। সেখানে দেখানো হয়, ফ্রিদা কীভাবে তার পোশাককে কেবল সাজসজ্জা নয়, বরং এক শক্তিশালী রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এবং মেক্সিকোর আত্মপরিচয়ের রাজনীতিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে।

আর ঠিক এই কারণেই, মৃত্যুর ছয় দশক পরেও তিনি আজও ফ্যাশন ও আদর্শের দুনিয়ার এক খাঁটি ও চিরসবুজ আইকন। কাপড়ের ক্যানভাসে তার এই অবাধ্য রাজত্ব চিরকাল এভাবেই টিকে থাকবে।

বিষয়: ব্যবসাদর্শনাকরপোরেটবাণিজ্যবামপন্থীফ্যাশন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ