Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ট্রাম্পকে না বলল কানাডা, কী হতে পারে এখন?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১৯
ট্রাম্পকে না বলল কানাডা, কী হতে পারে এখন?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দেশটির প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। ১২ এপ্রিল মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠিত লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কানাডা আর তার সামরিক বাজেটের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে ব্যয় করতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা প্রতি ডলারের প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেত। এই ব্যবস্থা থেকে সরে আসার ঘোষণা শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের সূচনা।

Advertisement

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতি, যা কানাডার অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বাধীন ও টেকসই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা। কার্নির বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয়কে শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চান।

কানাডা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কানাডার পণ্য কিনুন’ উদ্যোগের মাধ্যমে কানাডা স্থানীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। এর আওতায় দেশীয় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ এবং শ্রমশক্তিকে ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশীয় শিল্পখাত যেমন লাভবান হবে, তেমনি কর্মসংস্থানও বাড়বে। একইসঙ্গে এটি কানাডার সাপ্লাই চেইনকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কানাডিয়ান আর্মির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স
কানাডিয়ান আর্মির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স

তবে এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো– বৈদেশিক অংশীদারিত্বের পুনর্বিন্যাস। এতদিন কানাডার প্রতিরক্ষা উৎপাদনের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ফাইভ আইজ জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মতো নতুন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এই বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা কানাডাকে একটি বহুমুখী কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে এই নীতির বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীর সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড বা নোরাড দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে আসা সম্ভব নয় এবং কার্নিও তা স্বীকার করেছেন। বরং এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নির্ভরতা কমানো, সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।

এই সিদ্ধান্তের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ‘অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব’ ধারণার ওপর জোর দেওয়া। কার্নি মনে করেন, একটি দেশের নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সে তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে এবং অন্য দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন দ্রুত ঘটে এবং জোটের স্বার্থ পরিবর্তিত হয়, সেখানে এই ধরনের স্বনির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একইসঙ্গে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যেই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর কানাডার এই ধরনের নীতিকে ‘বাণিজ্যিক উত্তেজক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আরও মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, কানাডার এই নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ভূরাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের প্রচেষ্টা। একদিকে এটি দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

কার্নির এই পদক্ষেপ সফল হবে কিনা, তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর। তবে এটি স্পষ্ট যে, বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে কানাডা তার অবস্থান পুনর্নির্ধারণের পথে হাঁটছে– যেখানে স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত বৈচিত্র্যই হবে ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি।

বিষয়: অর্থনীতিকানাডানিরাপত্তাশুল্কডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রবাণিজ্যপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ